দল বেঁধে আড্ডা, বই কেনা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:২৭

বইমেলায় ভিড় নেই ঠিক, কিন্তু বইমেলা জমেনি এটা বলা যাবে না। মেলার শুরুতে তো আর মেলা শেষের সেই উপচে পড়া ভিড় থাকবে না। কিন্তু মানুষের আনাগোনা, দোকানে দোকানে কেনাবেচা থেমে নেই। টুকটাক বিক্রি হচ্ছে ভালোই। বেলা গড়াতেই বিকালে বইমেলা যখন খোলে, তখন বইমেলায় ভিড় জমে ওঠে তরুণ-তরণীদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। দেখা যায়, দল বেঁধে পুরো বইমেলা টইটই করে বেড়াচ্ছে। তাদের কথা, হাসির কলকাকলি মেলার স্তব্ধতা ভেঙে দেয়। গতকালও দেখা গেছে দল বেঁধে শিক্ষার্থীদের ভিড়।

গ্রুপ করে বই কেনা:
গ্রুপ করে, দল বেঁধে ঘুরতেও যায় অনেকে। কিন্তু গ্রুপ করে বই কেনার কথা শুনিয়ে অবাক করলেন গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের শিক্ষার্থীরা। এই মেডিক্যাল কলেজের একঝাঁক শিক্ষার্থী গতকাল মেলায় এসেছিলেন। মেহেদী, আরিফ, আরাফাত, নুসরাত, অথিয়া, রিও, শুদ্ধ। পুরো মেলা কয়েক চক্কর দিয়ে কিনেছেন নানা স্বাদের বই। মজার ব্যাপার হলো, এরা সবাই বই কিনেছেন সবার মিলিত টাকায়। সবাই সবার পছন্দের বই কিনেছেন। এরপর প্রত্যেকেই প্রত্যেকের পছন্দের বই পড়বেন। মেহেদী জানালেন, তারা কিনেছেন রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ, মূলধারা ’৭১, রাইজিং ফ্রম দ্য অ্যাশেজ, কোরআন ও রসায়নশাস্ত্র, হিমু সমগ্র-২, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭টি উপন্যাস সংগ্রহ। অথিয়া বললেন, ‘আমরা সবাই সবার পছন্দের বইগুলো কিনেছি। এরপর সবাই মিলে সেই বইগুলো পড়ব, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। আমাদের তরুণেরা বই পড়ে না বলে যারা মাথা কুটে মরছেন, তারা এই তরুণদের কথা জেনে নিশ্চয়ই কিছুদিনের জন্য সমালোচনা করা বন্ধ করবেন।’

প্রথম বইমেলা দর্শন:
মেলার মাঠে কথা হয় আবিদা মোনালিসা ও খন্দকার জাহিদের সঙ্গে। তারা শুক্রাবাদে আট জন সুবিধাবঞ্চিত মেয়েকে নিজেদের কাছে রাখেন। তাদের লেখাপড়াসহ সব ভরণপোষণ করেন। এদেরই চার জনকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন বই কিনতে। মুক্তা, মাফুহজা, ঊর্মি ও রোজিনা পড়ে শুক্রবাদের নিউ মডেল বহুমুখী বিদ্যালয়ে। প্রথমবারের মতো বইমেলায় এসেছে তারা। সবার চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। ঘুরে ঘুরে পছন্দের বই কিনল তারা। ওদের হাসিই বলে দিচ্ছিল বইমেলায় আসতে পেরে কতটা খুশি হয়েছে তারা। কী কী বই কিনেছ জানতে চাইলে সবাই একসঙ্গে বইয়ের নাম বলতে শুরু করল। ওদের কথায় কোনো বইয়ের নাম বোঝা গেল না। কিন্তু ওদের আনন্দ মন ভরিয়ে দিল।

নতুন বই:
বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, গতকাল বুধবার বইমেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৯৫টি। এর মধ্যে অনুপম প্রকাশনী থেকে সৌমেন সাহার বিজ্ঞানবিষয়ক বই ‘আকাশ দেখা ভারি মজা’, অন্যপ্রকাশ থেকে শিহাব শাহরিয়ারের কবিতার বই ‘অদৃশ্য গুচ্ছ’, অনন্যা থেকে আসিফ নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আওয়ামী আমল’, কথাপ্রকাশ থেকে মুনতাসীর মামুনের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ‘স্মৃতিময় ঢাকা’, হাসান আজিজুল হকের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘লেখা না-লেখা’, সরলরেখা প্রকাশনা থেকে আল মাহমুদের উপন্যাস ‘রাগিনী’ এবং ‘সহোদরা’, বিভাস থেকে মহাদেব সাহার ‘মুজিব সমগ্র’, ইকরি মিকরি প্রকাশন থেকে ধ্রুব এষের ‘অং বং চং’, মোজাম্মেল হক নিয়োগীর ‘পাখিদের খুশির দিন’ এবং গ্রন্থকুটির থেকে মো. জাফর হোসেন সম্পাদিত অনুবাদগ্রন্থ ‘বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ উল্লেখযোগ্য।

লেখক বলছি:
‘লেখক বলছি’ মঞ্চে গতকাল বুধবার অতিথি হিসেবে কথা বলেন কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, শিশুসাহিত্যিক স ম শামসুল আলম, কবি সাকিরা পারভিন সোমা ও প্রাবন্ধিক রাহেল রাজিব।

আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল:
গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অজয় দাশগুপ্ত রচিত বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নূহ-উল-আলম লেনিন ও আবু সাঈদ খান। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অজয় দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।

ইত্তেফাক/বিএএফ