বাংলাদেশ যদিও টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে। কিন্তু এই সিরিজ থেকে প্রাপ্তিও নিতান্ত কম নয়। বিশেষ করে গতকাল প্রকাশিত আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যাচ্ছে দারুণ উন্নতি হয়েছে দুই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। উন্নতি হয়েছে ব্যাটসম্যান লিটন দাসেরও।
সাকিব এই সিরিজে ১০৩ রান করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে ৬১ করেছিলেন। পরের ম্যাচে ম্যাচ জেতানো ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন। এই দুই ইনিংস ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিবকে ৭ ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এখন তিনি ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩৭ নম্বরে আছেন।
এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার এগিয়েছেন বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও। এই সিরিজে ম্যাচ জেতানো ৫ উইকেটসহ মোট নিয়েছেন ৮ উইকেট। ফলে তিনি বোলারদের তালিকায় ১০ম স্থান থেকে উঠে এসেছেন ৭ নম্বরে। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব টেস্টে এক নম্বরে ও ওয়ানডেতে দুই নম্বরে আছেন অলরাউন্ডারদের তালিকায়। টি-টোয়েন্টিতে এক সময় এক নম্বরে ছিলেন। কিন্তু এই সিরিজের আগে ছিলেন তিন নম্বরে। সিরিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এক ধাপ এগিয়ে চলে এসেছেন ২ নম্বরে।
সাকিবের সতীর্থ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও তিন বিভাগেই এগিয়েছেন। এই সিরিজে তিনি রান করেছেন ৬৬। ফলে তিনি ব্যাটসম্যানদের তালিকায় চলে এসেছেন ৩১তম স্থানে। এ ছাড়া সিরিজে রিয়াদ ৫ উইকেট নিয়েছেন। ফলে ১৭ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি ৫১তম স্থানে উঠে এসেছেন। রিয়াদের ভালো উন্নতি হয়েছে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও। সেখানে ৫ নম্বর থেকে ৪ নম্বরে চলে এসেছেন তিনি।
বাংলাদেশিদের মধ্যে আর উন্নতি হয়েছে লিটন দাসের। তিনি এই সিরিজে দুটি ম্যাচে ভালো রান পেয়েছেন। ২৬ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি ক্যারিয়ার সেরা ৪৭তম স্থানে আছেন।
বাংলাদেশের জন্য খারাপ খবর হলো তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের পিছিয়ে যাওয়া। তামিম এই সিরিজে তেমন রান পাননি। ফলে তিনি দুই ধাপ পিছিয়ে ৪১তম স্থানে চলে গেলেন। অন্য দিকে মুশফিক ৫ ধাপ পিছিয়ে ৫২তম স্থানে চলে এসেছেন। এই দুই ব্যাটিং স্তম্ভ এই সিরিজে একদমই রান পাননি। মুস্তাফিজ উইকেট পেলেও খুব খরুচে ছিলেন। তাই দুই ধাপ পিছিয়ে ২৪তম স্থানে চলে গেছেন এই পেসার।
আরো পড়ুন: নির্বাচনী দায়িত্বে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিক থেকে সবচেয়ে উন্নতি হয়েছে এভিন লুইসের। শেষ ম্যাচে ম্যাচ জেতানো এক ঝড়ো ৮৯ রানের ইনিংস খেলেছেন লুইস। ফলে তিনি ১১ ধাপ এগিয়ে চলে এসেছেন ৪ নম্বরে। লুইস ব্যাট হাতে যেমন সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছেন, বল হাতে কাজটা করেছেন কেমু পল। তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেওয়ার পথে ১৫ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। পুরস্কার পেয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ে। তিনি ৪২ ধাপ এগিয়ে ৩০ নম্বরে চলে এসেছেন। এ ছাড়া ব্যাট হাতে প্রথম ম্যাচে তার পারফরম্যান্স তাকে ব্যাটিং তালিকাতেও ৩৪ ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
শাই হোপ ধারাবাহিকতার পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ফিফটিসহ তার তিন ম্যাচেরই ধারাবাহিক রানের জন্য ৮২ ধাপ এগিয়ে তিনি ৮২ নম্বরে এসেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরান ১৬ ধাপ এগিয়ে ৮৮ নম্বরে এবং রভম্যান পাওয়েল ২৬ ধাপ এগিয়ে ১১০ নম্বরে এসেছেন।
ইত্তেফাক/কেআই
