রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক পেলেন নজরুল মণ্ডল

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:০১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিম মোস্তফার ধানের শীষ প্রতীক ও মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নাদিম মোস্তফার আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার চেম্বার বিচারপতি নুরুজ্জামান ননীর আদালত এ আদেশ দেয়।

বিষয়টি জানিয়েছেন ওই আসনের বিএনপির অপর প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ছেলে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন।তিনি জানিয়েছেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন রিটানিং কর্মকর্তা। সোমবার তাকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক। 

তিনি জানান, ঋণ খেলাপীর দায়ের নাদিম মোস্তফার মনোনয়ন বাতিল নিশ্চিত জেনে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে তারা রিট করেছিলেন। নইলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হতো।

ব্যারিস্টার রাজন আরো বলেন, ‌‘সোমবার তার বাবা নজরুল ইসলামকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই পোস্টার ছাপানোও হয়েছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। উভয় রিট আবেদনের শুনানি শেষে একটিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ ঋণ খেলাপীর দায়ে নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল করে। অপরটিতে তার ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ বাতিল করে অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে দেয়ার আদেশ দেয়। তবে হাইকোর্ট বেঞ্চের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আপিল করেন নাদিম মোস্তফা। 

সোমবার দুপুরে আপিলের শুনানি শেষে হাইকোটের আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার আদালতের বিচারপতি।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের ডা. মনসুর রহমান (নৌকা), বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির অধ্যাপক আবুল হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমীন (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির শফিকুল ইসলাম (গোলাপ ফুল)।

আরো পড়ুনঃ ‘সেনাবাহিনী কোন দলের নয়, বিতর্কিত করার চেষ্টা করবেন না’

উল্লেখ্য, প্রায় একযুগ নিষ্ক্রিয় থাকার পর পুঠিয়া-দুর্গাপুরে নির্বাচনী প্রচারের মাধ্যমে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। চারজনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও মূলপ্রার্থী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপির অভিযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কিন্তু আপীল শুনানির আগেই বিএনপি নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। পরের দিন নাদিম মোস্তফা আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলে বিএনপি তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। 

এদিকে প্রচারণার শুরুতেই দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেন নাদিম মোস্তফা। কিন্তু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বি নজরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন। তার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত নাদিম মোস্তফার প্রার্থীতা বাতিল করে নজরুল মণ্ডলকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। এ খবরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠ ছেড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

ইত্তেফাক/কেকে