গত কদিন ধরে চট্টগ্রামের আবহাওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ঘন কুয়াশায় বিমান ও নৌচলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিনে বেশ কিছু স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বিলম্বজনিত বিঘ্নও ঘটেছে।
সর্বশেষ আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত সোমবার রাত ১০টায় অনেক চেষ্টা করেও উড়তেই পারেনি। ফলে বিজনেস ক্লাসের ১ জন ও ইকোনমি ক্লাসের ২৭৩ জন যাত্রী আটকা পড়েন এখানে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরোয়ার-ই-জামান ইত্তেফাককে বলেন, আকাশে কুয়াশা এতো ঘন হয়ে পড়েছিল যে, দৃষ্টি সীমানা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বিজি-১২৭ ফ্লাইটটি বহু চেষ্টা করেও উড্ডয়নে ব্যর্থ হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে সক্ষম হয়। কুয়াশা রাতে ও সকালে পড়ছে বলে আরো কিছু ফ্লাইটের সিডিউল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের রেডিও কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়, কর্নফুলী নদী এবং চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলেও গত কদিন ধরে রাতে ও ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে লাইটারেজ জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দৃষ্টিসীমা বেশিমাত্রায় ব্যাহত হলে জাহাজ বা নৌযানগুলোকে ফগলাইট জ্বেলে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় নৌযানগুলোর মধ্যে ধাক্কা কিংবা মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।
এ রকম পরিস্থিতিতে নাইট নেভিগেশন সম্ভব নয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা প্রদীপ কান্তি রায় ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামের আবহাওয়ায় যেটিকে ঘন কুয়াশা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ঘন কুয়াশা নয়। এটিকে আবহাওয়ার পরিভাষায় বলা চলে ‘হেজ’। বর্তমানে শীত চলে গিয়ে বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যে ট্রানজিট চলছে, এতে উষ্ণতার হেরফের এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পও বাড়ছে। ফলে আবহাওয়াতে সৃষ্টি হচ্ছে দৃষ্টিসীমানা ব্যাহতকারী ‘হেজ’। এটি কুয়াশারই মতো, কিন্তু কুয়াশা নয়। যেমন আবহাওয়ার পরিভাষায় কুজ্ঝটিকা বা ‘মিস্টকেও’ কুয়াশা বলা চলে না। চট্টগ্রামে এখন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এসি
