নির্ভয়া গণধর্ষণ: ফাঁসির ৩ দিন আগে আবারও আবেদন

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:০১

ভারতের বহুল আলোচিত নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির ফাঁসি কার্যকরের আর মাত্র বাকী রয়েছে তিন দিন।  এরই মধ্যে আবারও এক আবেদন জানালো ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত আসামি অক্ষয় কুমার।  এর আগে গতকাল শুক্রবার ফাঁসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে আসামি পবন গুপ্তা। 

শুক্রবার সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত আসামি অক্ষয় কুমার ফের আবেদন জানিয়েছে আদালতে।  তার দাবি, সে এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে যে আবেদন জানিয়েছিল তা সম্পূর্ণ ছিল না।  রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া সেই আবেদন অসম্পূর্ণ দাবিকে আবেদন জানিয়েছে অক্ষয় কুমার নামে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

আরও পড়ুন: নির্ভয়া গণধর্ষণ: ফাঁসির ৪ দিন আগে ফের আবেদন

অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং দিল্লি আদালতকে জানান,  এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা আবেদন সম্পূর্ণ ছিল না।  আবারো পরিপূর্ণ ক্ষমার আবেদন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে জন্য পাঠানো হয়েছে।  এরআগে রাষ্ট্রপতি অক্ষয়ের পরিবারের অসম্পূর্ণ আবেদনের জন্য সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিল বলে দাবি করেন সিং।

আরও পড়ুন: নির্ভয়া গণধর্ষণ: ফাঁসির আসামির চিকিৎসা আবেদন খারিজ

গণমাধ্যমে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ অক্ষয়ের ক্ষমার আবেদন খারিজ করেছিলেন।  গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত আগামী ৩ মার্চ, সকাল ৬টায় ৪ আসামির ফাঁসি কার্যকরের রায় দিয়েছে।  মোট ৩ বার সেই ৪ অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

প্রসঙ্গ, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা।  এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।  এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।  

আরও পড়ুন: নির্ভয়া গণধর্ষণ: চার আসামির ফাঁসি ৩ মার্চ

২০১৭ সালের ৫ মে বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।  রায়ের পর চার আসামিই তা রিভিউয়ের আবেদন করে।  ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে দিল্লির আদালত।  ওই পরোয়ানা অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল।


ইত্তেফাক/আরআই