ছাত্রীকে রাবির চারুকলার শিক্ষক 

‘বাসায় বলিও না, আমি প্রেম দেওয়ানা’

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ১৭:৪১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক আমীরুল মোমেনীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ১৩ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কাছে তারা এ অভিযোগ করেন। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে অভিযোগে বলেন, ‘বিষয়টি বাসায় বলিও না, আমি প্রেম দেওয়ানা, আমি প্রেম পিপাসু, প্রেম দিবে আমায়’ এ ধরনের বার্তা বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠাতেন ওই শিক্ষক। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিতে অভিযোগের পর ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলাও করেছেন।

১৩ ছাত্রীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ছাত্রীদের শরীর নিয়ে মন্তব্য, অফিসে বসিয়ে রেখে ফ্রি মাইন্ডের কথা বলে নানা রকম ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা, সবার সামনে হাসতে হাসতে গায়ে হাত দেয়া, অন্য নারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ক্লাসে মেয়েদের শরীর সর্ম্পকে অশালীন কথাবার্তা বলে ছাত্রীদের হয়রানি করতেন ওই শিক্ষক।

অভিযোগের খবর পেয়ে ওই শিক্ষক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে ফোন করে ক্ষমা চান। সংরক্ষিত মোবাইল আলাপে তিনি বলেন, প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ! আমার অনেক শিক্ষা হয়েছে। আমি জীবনে আর কোনোদিন চারুকলা বা অন্য কোনো বিভাগের মেয়েদের কিছু বলবো না। এটা আমার বাসায় জানাজানি হলে আমার সোনার সংসার শেষ হয়ে যাবে। প্লিজ, বাসায় বলিও না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আমীরুল মোমেনীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ছাত্রীদের অভিযোগ দেখিনি। কি অভিযোগ দিয়েছে, কারা দিয়েছে তা কেউ বলছে না। ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি জানান, হ্যাঁ আমি ফোনে কথা বলেছিলাম। কিন্তু এটা সাধারণ বিষয়। এরা যে এরকম করবে, সেটা জানতাম না। আমি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমনটা করিনি।’

এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, আমার কাছে কোনো শিক্ষার্থী এধরনের অভিযোগ করেনি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেল আছে, তাই তারা হয়তো সেখানে অভিযোগ দিয়েছে। আশা করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিকার হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের সদস্য সচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যেহেতু সেলের সভাপতির থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। এ কারণে তিনি ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলবেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি