২০১৯ বিশ্বকাপের পর যতোগুলো টুর্নামেন্ট হয়েছে তার সবগুলোতেই লজ্জার হারের স্বাদ পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এমনকি আফগানিস্তানের মতো নবীন দলের বিপক্ষেও দেশের মাটিতে হারতে হয় বাংলাদেশকে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলেও ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে সেটা ঠিক তৃপ্তিদায়ক ছিল না। তবে একটা বড় দলের বিপক্ষে জয় পেলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে বলে মনে করেন নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তবে নেতৃত্বে ব্যর্থ হলে নিজেই সরে দাঁড়াবেন বলেও জানালেন তিনি।
ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ধবল ধোলাই করার পর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২০১৪ সালে মাশরাফি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ওয়ানডে দলটা আমূল বদলে যায়। এরপর ২০১৫ সালে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটায় টাইগাররা। ওই সময় থেকেই টাইগারদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। বড় বড় দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শুরুও তখন থেকেই।
মাশরাফির অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তামিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার (১৪ মার্চ) অনুশীলনের ফাঁকে অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের পরিকল্পনা আর লক্ষ্য নিয়ে বলতে গিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে একটা বড় জয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন তিনি। সেই সঙ্গে সাফল্য পেতে লম্বা সময় দায়িত্বে থাকার গুরুত্বও ওঠে এলো তার কথায়।
তামিম বলেন, অধিনায়কত্ব বোর্ডসহ সবার মিলিত সিদ্ধান্ত। আমরা এখন এমন এক অবস্থানে, অধিনায়ক হিসেবে এক বা দুই সিরিজ দায়িত্বে থাকা কঠিন। এজন্য আমি চাচ্ছিলাম লম্বা সময়ের জন্য। তাহলে একটা পার্থক্য আনা যায়। যেমন ধরুন ২০১৫ সালে মাশরাফি ভাইয়ের নেতৃত্বে পাকিস্তানকে হারানোর পর আমাদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে আমরা বড় দলকে হারাতে পারি। এখনকার স্কোয়াডে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। এই দল নিয়ে আমরা ভালো করতে পারি- এজন্য একটা বড় ম্যাচ জেতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে তামিম অবশ্য নতুন কেউ নন। এর আগে মুশফিকুর রহিম এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফির অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সহ-অধিনায়ক হিসেবেও ছিলেন অনেকদিন। কিন্তু সেসব ছিল অস্থায়ী দায়িত্ব। স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবেই এবারই প্রথম।
নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, সত্যি বলতে আমি অভিজ্ঞ অধিনায়ক না। এজন্য আমাকে সময় দিতে হবে। অধিনায়কত্ব করতে গেলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। আমি নিজেও জানি না, ছয় মাস কিংবা এক বছর পর আমার পারফরম্যান্স কেমন থাকবে। ফলে আমার জন্য লম্বা সময় পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এক সিরিজ কিংবা পাঁচ-ছয় ম্যাচে ব্যর্থতা-এটা হতেই পারে। আশা করি হবে না। তবে আমি অধৈর্য হব না, আপনারাও হবেন না। দলের ভালোর জন্য আমি চেষ্টা করব। সফল হব কি না তা জানি না। তবে সব ঠিকঠাক করার চেষ্টা করব। আর যদি মনে হয় আমি দলের সঙ্গে সুবিচার করছি না তাহলে আমিই সবার আগে সরে দাঁড়ানোর কথা বলব। আমিই হাত তুলে বলব ‘সরি’।
ইত্তেফাক/এসআই
