মেহেরপুর-১: সরগরম আওয়ামী লীগ, নিরব ভোট বিপ্লবের আশায় বিএনপি

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১৫

মেহেরপুরের-১ আসনে মাইকিং, মিছিল, গণসংযোগে সরগরম করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচনী কার্যালয় ও প্রচার মাইক ভাঙচুর, পুলিশি হয়রানি আতংকে কোনো ধরনের নির্বাচনী আমেজ নেই বিএনপির মধ্যে। তবে বিএনপি প্রাথীরা ভাবছেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে নিরব বিপ্লব ঘটবে। 

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে সরজেমিনে দেখা যায়, সর্বত্রই ছেয়ে আছে নৌকার পোস্টার আর ব্যানার। কিন্তু দেখা মিলছে না ধানের শীষের পোস্টার ও ব্যানার। কিছু জায়গায় দেখা গেলেও তা ফাটা-ছেঁড়া। মাঠের প্রচারণাতেও তেমন নেই বিএনপির প্রার্থীরা। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী-সমর্থকরা। 

মেহেরপুর -১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে চরম কোন্দ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠির পর আওয়ামী লীগ কোন্দল ভুলে প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী উৎসবে সামিল হয়েছে। বিএনপিতে তেমন কোন্দল না থাকলেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে টিকতে পারছে না। মাঠে টিকতে না পেরে ভোটারদের নীরব ভোট বিপ্লবের আশায় আছেন। 

সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের এক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের ভোট কেন্দ্রে নিষেধ করেছেন। প্রায় প্রতি রাতে পুলিশ নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুন বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। গ্রামে গ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করছে এবং তাদের মিথ্যা মালায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নাই। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’ 

আরও পড়ুনঃ ধীরে-স্বস্তিতে প্রথম দিন পার ভারতের

এদিকে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফরহাদ হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। নির্বাচনের জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। বিএনপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির দুর্বৃত্তরা তাদের বিভিন্ন নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।’
 
প্রসঙ্গত, মেহেরপুর-১ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৯ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৫।  

ইত্তেফাক/কেকে