রাজধানীতে পশু সেবা কেন্দ্রের জন্য দুই বিঘা জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে মেয়ে বুশরা আফরিনকে নিয়ে মিরপুরের টোলারবাগ এলাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক তন্ময় ইমরানের স্ত্রী তানিয়া হোসেনের চায়ের দাওয়াতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
এছাড়া মুজিববর্ষকে সামনে রেখে পশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া, বন্ধ্যাত্বকরণের কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল।
মেয়র বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমি সিটিতে কোন একটি জায়গায় দুই বিঘা জমি এনিম্যাল লাভারদের জন্য দিতে চাই। যাতে করে সকল প্রাণী এখানে এসে ট্রিটমেন্ট নিতে পারে। এছাড়া পশুদের জন্য ক্লিনিক্যাল সার্ভিস আমি দিতে চাই, কারণ এটা দিতে হবে আমাদের। এই শহরটা কিন্তু সবার জন্য, একেকজন একেক জিনিস ভালোবাসে। কেউ কুকুর ভালোবাসে, কেউ মাছ, কেউ পাখি, কেউবা বিড়াল ভালোবাসে।’
গত বৃহস্পতিবার নিজের এলাকার কুকুরগুলোর বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিডিনিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকেমের মতামত পাতায় ‘মেয়র আতিককে আমার স্ত্রীর চায়ের নিমন্ত্রণ’ শিরোনামে খোলা চিঠি লেখেন তন্ময় ইমরান।
ওই চিঠির সাড়া দিয়ে ইমরানের বাসায় গিয়ে মেয়র আতিক বলেন, 'মেয়র একা কিছু করতে পারবে না। এ নগরটাকে ঠিক করতে হলে সবাইকে একসাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। তবেই শহরের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সহজ হবে।'
এছাড়া তন্ময় ইমরান জানান, তার বাসায় ১১টি নেড়ি কুকুর রয়েছে। সেগুলো বাইরে বের হলে এলাকাবাসী তাদের দেখে ভয় পায়, সেগুলোকে মারধর করে এবং কুকুরগুলোকে ফেলে আসার জন্য প্রায়ই তাকে চাপ দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন: নতুন ২ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এদিকে আতিকুল ইসলাম নিজের মেয়ের পশুপ্রেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'অনেকেই কিন্তু পশুপ্রেমী আছে, এনিম্যাল লাভার। নিজের বাচ্চাকে যেমন পছন্দ করে, এনিম্যালদেরও। কথাই আছে- ‘জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’। ধর্মেও আছে পশুদের যাতে কষ্ট না দেই আমরা। তাদের মেরে ফেলাটা কিন্তু সমাধান না, এনিম্যাল আ্যাক্টও পাশ হয়েছে সংসদে।'
মেয়র আতিকুল কন্যা বুশরা আফরিন বলেন, ‘অনেক পশু রাস্তায় পড়ে থাকে, বিড়াল ড্রেনে পড়ে থাকে, মরে পড়ে থাকে, কিন্তু কেউ তাতে হাতও দেয় না। রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট করে পড়ে থাকে, কিন্তু তাদের বাঁচানোর জন্য কেউ আসে না। আমি এসব প্রাণিদের বাসায় নিয়ে যাই, তাদেরও তো স্বাভাবিক সুস্থ জীবনের অধিকার আছে।’
পশু সেবা কেন্দ্রের ছাড়াও গাছপালার জন্যও একটি ‘বৃক্ষ ক্লিনিক’ করার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র আতিকুল।
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, সবাইকে নিয়েই এই শহর। পাখির ডাক কিন্তু কমে গেছে, শুনি না কিন্তু আমরা। গাছ কেটে ফেলার কারণে বাদুড় কিন্তু কমে গেছে। আমাদের মশার ওষুধ দিতে হচ্ছে, গলিতে গাপ্পি মাছ থাকত, মশা খেয়ে ফেলে। একটি বাদুড় ঘণ্টায় ছয়শ মশা খেতে পারে। আমাদের প্রকৃতি যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে শহর কিন্তু বাঁচানো সম্ভব না।'
এ সময় বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ ফাউন্ডেশন ‘অভয়ারণ্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ বলেন, ‘কুকুর কেন কামড় দেয়, সে ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। কেন বেশিরভাগ মানুষ প্রবলেম মনে করছে? আমাদের কাজ হল, কুকুরের দ্বারা মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, আবার মানুষের দ্বারা কুকুরের যেন ক্ষতি না হয়।’
এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হকসহ, এলাকার অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমএএম

