আপত্কালীন অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তামিম ইকবালের। মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ১৪তম অধিনায়ক তামিম গতকাল নতুন দায়িত্বে দলকে নিয়ে নিজের ভাবনা, কাজের ধরন, ভবিষ্যত্ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন।
তামিমের কথায় স্পষ্ট বিদায়ী অধিনায়ক মাশরাফির সাফল্য চাপ হয়ে বসছে তার ওপর। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অভিজ্ঞ এই ওপেনার বারবারই অনুরোধ করে সমর্থকসহ সবার কাছে সময় চেয়েছেন।
অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনের কারণ.........
অধিনায়কত্বের ব্যাপারটা যেটা জানেন যে এটা একটা সম্মিলিত প্রক্রিয়া। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে আমার একটা কারণ ছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত থাকে। আমি হই বা অন্য কেউ, আমরা এখন এমন পর্যায়ে ধরুন একটা, দুইটা বা তিনটা সিরিজে খুব কঠিন অধিনায়কের জন্য কোনো কিছু পরিকল্পনা করা। আমি চাচ্ছিলাম লম্বা সময়ের জন্য। লম্বা সময় পেলে দলে আপনি একটা ব্যবধান গড়তে পারেন।
বাইরের চাপ না নেওয়া ও অধিনায়ক হিসেবে ভালো-খারাপ সময়ের মোকাবিলা করা কতটা কঠিন হবে?
সত্যি বলতে আমি খুব অভিজ্ঞ অধিনায়ক না। যদি বলে আমি অনেক জায়গায় অনেক অধিনায়কত্ব করেছি তা না। এই কারণে আমার প্রতিও ওটা (বিশ্বাস) রাখবেন। একটু সময় দিতে হবে আমাকে যে কোনো কিছুর। খুব স্বাভাবিক একটা কথা যে অধিনায়কত্ব কেউ নিলে চলে আসে ব্যাটিং পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যায়, এটা ওটা হয়ে যায়। আমি নিজেও জানি না আজ থেকে ছয় মাস বা এক বছর পর কীভাবে আমার পারফরম্যান্স করব। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। আপনাদেরও একটু ধৈর্য রাখতে হবে। আমাদের দর্শক যারা আছেন তাদেরও একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
আরও পড়ুনঃ তিন মানব পাচারকারীর ১২৫ বছর করে কারাদণ্ড
আর আমি এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নিচ্ছি যে এটা খুব কঠিন সোজাসুজি ওনার পর্যায়ে চলে যাওয়া। তিনি এত বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধীনে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। সোজাসুজি ওনার পর্যায়ে চলে যেতে পারলে ভালো। আর যদি যেতে না পারি আমাকে আপনাদের কিছু সময় দিতে হবে।
মাঠের বাইরের ইস্যু সামলাতে হবে আপনাকে। সে ব্যাপারে কতটা প্রস্তুত?
আমার কাছে মনে হয় অন দ্য ফিল্ড অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে যেটা হলো ‘টিম কালচার’। আমরা মাঠের বাইরে কীভাবে চিন্তা করছি বা কতটা পেশাদার আমরা। আমার কাছে মনে হয়, ঐ জায়গায় কীভাবে আমরা আরো উন্নতি করতে পারি সেটাই হবে আমার প্রথম কাজ।
অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে দল নিয়ে আপনার স্বপ্ন, লক্ষ্য কি?
আমি যদি বলি আমি সেরা তিন দলের একটি হতে চাই, এটি অনেক লম্বা একটা প্রক্রিয়া। আমি শুধু বলার জন্য এটা বলতে চাই না। আমাদের এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছোটো ছোটো জিনিসগুলো কীভাবে ঠিক করতে পারি। ট্রেনিং কীভাবে আরো ভালো করতে পারি। দল হিসেবে কীভাবে খেলতে পারি।
মাঠে অধিনায়ক হিসেবে আপনার দর্শন কি?
আমি আক্রমণাত্মক থাকতেই পছন্দ করি। পরিস্থিতি অনেক সময় বুঝতে হবে, শক্তিমত্তার বিষয়ও আমাদের বুঝতে হবে। সবকিছু দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আপাতত এতটুকু বলতে চাই এক্ষেত্রে আপনারা একটু ধৈর্য রাখবেন। দর্শকদের অনুরোধ করব আপনারা অধৈর্য হবেন না। আর যদি ছয় মাস, এক বছর কিংবা দেড় বছর হোক আমি যদি দলের জন্য কিছু করতে না পারি তাহলে আমি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বলব, আমি দুঃখিত।
মাশরাফির উত্তরসূরি হওয়াটা কি তাহলে চাপের হয়ে গেল?
অবশ্যই, আগেই বলেছি এটি খুব কঠিন। এখনই যদি আমার কাছে আশা করেন যে ঐ লেভেলে চলে যেতে হবে, তাহলে সেটি আমার প্রতি অন্যায় হবে। আমি চেষ্টা করব। আমি বলছি না যে আমি পারব না বা এই দল পারবে না। এ কারণেই আমি বলেছি যে সময় দিয়েন আমাকে। এটি এমন জিনিস যে রাতারাতি বদলানো যায় না।
২০২৩ বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার ভাবনা?
সত্যি কথা, আমি ওরকম কিছু চিন্তা করিনি। দল ভালো করলে, আমি ভালো করলে সময়ের সঙ্গে ২০২৩ বিশ্বকাপ ভাবা শুরু করব। এই মুহূর্তে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিছু ব্যাপার ঠিকঠাক করা। পাকিস্তানে যদি যাই, আগে সেটির দিকে নজর দেওয়া।
