আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তিকে পাত্তা দেয়নি ইতালি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৭:১৬

চীনের হুবেই প্রদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণ যখন বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে, তখন অনেক দেশই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। এর বড়ো উদাহরণ হলো ইতালি। যে কারণে দেশটিকে এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। গত বুধবার ইতালিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৭৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ।

ইতালির সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তিকে পাত্তা দেয়নি দেশটি। ইতালির কোরিয়ার ডেলা সেরা পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রশাসনিক অঞ্চল লমবর্ডির একটি হাসপাতালে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৩৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ঐ ব্যক্তি সম্প্রতি চীন সফর করে আসেননি। তাই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ঐ ৩৬ ঘণ্টায় আক্রান্ত মানুষটি হাসপাতালের কর্মী, পরিবার ও বন্ধুদের সংস্পর্শে যান। আর তাদের কারণেই এই ভাইরাসের বিস্তার হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ঐ আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুবই বাজে কাজ করেছে। করোনার কারণে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হলো লমবর্ডি।

খবরে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ঐ ব্যক্তির বয়স ৩৮ বছর। তার নাম মাত্তিয়া। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তিনি কোডোগনোর একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রথম ভর্তি ছিলেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় তার করোনা পরীক্ষা হয়। অথচ তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ৩৬ ঘণ্টা আগে। তার সংক্রমণ শনাক্তের তিন ঘণ্টা পর মধ্য রাতে আইসিইউতে তাকে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ডাক্তার-নার্সদের সেলফ-কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের আবারও কাজে যোগ দিতে ডাকা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী গর্ভবতী। তিনিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। যদিও ইতালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। ঐ পত্রিকার খবরে আরো বলা হয়েছে, মাত্তিয়া ভর্তি হওয়ার আগে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা ভাইরাস নিয়ে হাসপাতালগুলোর জন্য সরকারি নির্দেশনা শিথিল করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালি এখন সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি