ড. কামাল হোসেন বিএনপির ভাড়াটিয়া। তিনি আদর্শ ও দলত্যাগী একজন নেতা। আদর্শ, মানবিকতা পরিহার করে আজ তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়েছে। পুলিশ যখন নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করেছে সেই সময় তিনি এই বাহিনীকে জানোয়ার বলেন। আর সাংবাদিকদের বলেন খামোস, কত টাকা খেয়েছো? ও একটা পাগল। আমি ওকে ঘৃণা করি।
বুধবার সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত স্থানীয় আব্দুল জব্বার কলেজ সংলগ্ন স্থানে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে যেতে পারেননি। আজ তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সত্ ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্ব দরবার আজ তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি দিচ্ছে। উপাধি পেয়েছেন বিশ্ব মানবতার মা হিসাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ দুর্নীতিতে পর পর ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। তিনি বলেন ২০০১ সালে চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় লুটপাট আর সন্ত্রাস। জোট সরকারের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। পুকুরের মাছ, গোয়ালের গরু, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নারীদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। আমার ভাতিজা আপনাদের বর্তমান এমপি আলী আজম মুকুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা ও ভাগিনা রফিকের বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আমি এ এলাকা থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। কখনো প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ পরায়ণ হইনি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের মঙ্গলের জন্য আর হাফিজ ইব্রাহীম করছে অত্যাচার করার জন্য। এ জন্য আজ সে বাসা থেকে বের হতে পারে না। কারণ নির্যাতিত জনগণের কাছে ওর মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বর্তমান সরকারের আমলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে গ্রাম হবে শহর, আর ভোলা হবে দ্বিতীয় সিংগাপুর। গ্রামের প্রতিটি ঘরে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ সময় সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, জেনে রাখুন আগামী ৩০ তারিখের নির্বাচনে শেখ হাসিনা দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ।
ভোলা-২ আসনের নৌকার প্রার্থী আলী আজম মুকুল এমপি বলেন, আমার মা-বাবা নেই। আপনারাই আমার মা-বাবা। আমি পাঁচটি বছর আপনাদের খেদমত করেছি। আমার কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী ৩০ তারিখের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন হায়দারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ-এর মেয়ে ডা. তাছলিমা আহমেদ মুন্নী, বোরহানউদ্দিন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার কলেজের অধ্যক্ষ এসএম গজনবী, সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক যুবদল নেতা অসীম কুমার পন্থি প্রমুখ।
ইত্তেফাক/আরকেজি
