করোনা আতঙ্ক:  গাইবান্ধা জেনারেল  হাসপাতাল রোগী শূন্য

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২০:১৪

গাইবান্ধা জেলার অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র ২০০ শয্যা বিশিষ্ট গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। হাসপাতালের শয্যাগুলো এখন একেবারেই ফাঁকা। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে হাসপাতালের সিট পাওয়া তো দুরের কথা, মেঝে এবং করিডরেও রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কে হাসপাতালে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। করিডর মেঝে তো দুরের কথা প্রত্যেকটি কক্ষে এখন সিটগুলোও শূন্য পড়ে আছে। 

এছাড়া আউটডোরে কোন রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অথচ কিছুদিন আগেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। তবে আউটডোরে এবং ইমার্জেন্সিতে শুধুমাত্র দু’জন চিকিৎসককে উপস্থিত থেকে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের সেবায় ২ নার্স ও ১ জন আয়াকে কর্মরত দেখা গেছে। তবে আউটডোরে রোগীর উপস্থিতি ছিল ২ থেকে ৩ জন। 

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে রোগী ছিল ২০০ থেকে ২১০ জন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত রোগী ছিল মাত্র ১২ জন। এরমধ্যে গত শুক্রবার বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০ জনের চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন। 

বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে কম রোগী আসছেন। যে কয়েকজন আসেন তাদেরকে জরুরী বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 

রোখসানার আত্মীয় জলিল মিয়া বলেন, এখন রোগি কম চিকিৎসা মোটামুটি ভাল হচ্ছে। কিন্তু গত শুক্রবার এখানকার আইসোলেশনে নতুন করে দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। আর এখানে থাকা যাবে না। আজই বাড়ি যাবো। 

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হারুণ-অর-রশিদ বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। যারা আগে ভর্তি ছিলেন, তারা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/এসআই