করোনায় অসহায়দের পাশে ডাকসু জিএস রাব্বানী

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৭

করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর দিনমজুর, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া জনগণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করা দুস্থদের সহায়তা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। দেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পরপরই তিনি বিতরণ শুরু করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কুকুর, বিড়ালেরও দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

গত ২৫ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, রিকশা চালক, দিনমজুর, পথশিশু এবং ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ৫০০ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১০০০ ফিল্টার মাস্ক, ৫০০ জীবাণুনাশক ডেটল সাবান ও ৫০০ হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করেন। ২৬ মার্চে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করেছেন তিনি। ২৭ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শতাধিক ছিন্নমূল মানুষকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত কুকুর বিড়ালকে খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন। এসব খাবার মধুর ক্যান্টিনে রান্না করা হয় এবং পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত কুকুর বিড়ালদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিয়ের পোশাক বাদ দিয়ে পড়লেন পিপিই

এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ক্যাম্পাসসহ পুরো বাংলাদেশ লকডাউন। ঢাকার ছিন্নমূল মানুষজন অন্যান্য সাধারণ মানুষদের উপর নির্ভর করতো। এখন তাদের এই পথ বন্ধ। তাই ডাকসুর জিএস হিসাবে আমি তাদের একটু সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। সেই জায়গা থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই একজন মানুষ হিসেবে, মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি নিজ ফান্ড থেকে তাদের মধ্যে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাসের কুকুর বিড়ালগুলো ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করতো। এখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও অন্যরা না আসায় তাদের খাবারের পথও বন্ধ। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা কুকুর-বিড়ালগুলো যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য প্রতিদিন মুরগির গোস্ত রান্না করে কুকুরগুলোক নির্ধারিত স্থানে এসব খাবার দেয়া হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার এই সহায়তামূলক কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/বিএএফ