করোনার চিকিত্সা

বাংলাদেশে ওষুধের জোগান কোন পথে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫৫

করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় কাজে আসতে পারে এমন ওষুধ নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে বিশ্বের অনেক দেশের ছোটো-বড়ো কোম্পানি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধের স্বীকৃতি দেওয়া না হলেও পরীক্ষামূলক ব্যবহারে কিছু ওষুধ নিয়ে আশাবাদ দেখা গেছে।

বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় যেসব ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সেসব ওষুধ তৈরি করতে শুরু করেছে। তবে সব ওষুধ এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। স্বল্পন্নোত দেশ হওয়ায় ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মেধাস্বত্ব আইন প্রযোজ্য হয় না।

মূলত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ফ্যাভিপিরাভির—এ দুটি ওষুধ নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশা দেখছেন। ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিত্সায় জাপানি কোম্পানি ফুজির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তোয়ামা কেমিক্যাল তৈরি করেছিল। এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ‘অ্যাভিগান’। এখন এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে নানা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পশ্চিমা কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে কিছু সফলতা পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ওষুধের কথা বারবার উল্লেখ করায় এটি নিয়ে আলোচনাও বেশি হয়েছে। যদিও করোনা ভাইরাস চিকিত্সায় এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন তার প্রশাসনের কর্মকর্তারাই।

কয়েকটি দেশে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করছেন চিকিত্সকেরা। এটি মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হলেও করোনার ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার আনতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক গিলিয়াডের তৈরি রেমডিসিভির ওষুধ নিয়েও চলছে পরীক্ষামূলক ব্যবহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো কোনো ওষুধের ব্যাপারেই পুরোপুরি আস্থা ঘোষণা করেনি।

টিকা আবিষ্কারের কতদূর?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল টাইম পত্রিকাকে জানিয়েছেন যে আগামী চার মাসের মধ্যেই টিকা প্রস্তুত হতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মানবদেহে এর পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। মানবদেহে করোনার টিকা পরীক্ষার তিনটি ধাপে সফল হলেই তা আক্রান্তের দেহে প্রয়োগ করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৩৫টি একাডেমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। তবে সফল হলেও বড়ো আকারে বাজারে আসতে ২০২১ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সময় লেগে যাবে।

ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে আশাবাদী চিকিত্সকেরা

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক মো. বিল্লাল আলম বলেন, ‘বর্তমান চিকিত্সায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের সঙ্গে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ফ্যাভিপিরাভিরও ব্যবহারে বেশ সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শতভাগ পরামর্শ দেয়নি, কিন্তু প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এটা নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী হয়ে উঠছি। জাপানের তোয়াহা কোম্পানির এই উপাদানের তৈরি ওষুধের ব্র্যান্ড নেম অ্যাভিগান।’

অধ্যাপক আলম বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আশি শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। টেলিমেডিসিন দিয়েই বা ঘরে থেকেই তারা সুস্থ হয়ে যাবেন। বাকি ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে, যেখানে নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা থাকে, সেখানে আমাদের এসব ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। যাদের ডায়াবেটিস, হূদেরাগ বা অন্যান্য সমস্যা থাকে, এসব ওষুধের পাশাপাশি তাদের সেসব সমস্যার ওষুধও দিতে হয়।’