কাজ নেই গৃহকর্মীদের অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০১:০৫

গৃহকর্মী  বিউটি কাজ করতেন ছয়টি বাসায়। মাস শেষে পেত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ছাড়াও মাঝে মধ্যে ভাগ্যে জুটত এক বেলা খাবার। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিউটি কাজ হারিয়েছেন সবকটি বাসার। শুধু বিউটিই নয়, তারমত লাখ লাখ গৃহকর্মী কাজ হারিয়ে এখন অর্থকষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এভাবে কতদিন তাদের কর্মহীন থাকতে হবে সেটাও জানে না তারা। এই কর্মহীন সময়ে কিভাবে ঘর ভাড়া পরিশোধ করবে এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেবে তা নিয়ে যত দুশ্চিন্তা ভর করছে তাদের উপর। 

বিউটির মত একাধিক বাসায় কাজ করতেন ৫৫ বছর বয়সী আলেয়া। তিনিও কাজ হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গৃহকর্মীরা জানান, বাসা-বাড়ির মালিকরা আমাদের কাজে যেতে নিষেধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যোগাযোগ করতে বলেছেন। এখন কাজ নেই, এই সময়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে বাঁচব সেটা নিয়ে সকল দুশ্চিন্তা।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন ইত্তেফাককে জানান, ঢাকায় প্রায় ১৩ লাখ গৃহ শ্রমিক রয়েছেন। এর অধিকাংশই অস্থায়ী। এই অস্থায়ী গৃহ শ্রমিকরাই কাজ হারিয়েছেন। স্থায়ী যেসব গৃহ শ্রমিক রয়েছেন তারা কাজে রয়েছেন। তবে এদের অনেকেই কাজ না করলেও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গৃহ শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। সরকারের উচিত এখনই গৃহ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী গ্রহণ করা। যাতে তারা বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে। তবে গৃহকর্মীদের অনেকেই সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও নানা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেওয়া সাহায্য পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় গৃহকর্ত্রী রাশেদা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, গৃহকর্মীরা একাধিক বাসায় কাজ করেন। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি রয়েছে। করোনা ভাইরাস যদি এদের মাধ্যমে বাসার কেউ আক্রান্ত হয় সেটা তো বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে। এজন্য গৃহকর্মীদের বাসায় আসতে বারন করা হয়েছে।

একই মত ব্যক্ত করলেন হাফিজা খাতুন। তিনি জানান, প্রতিদিনের কাজে আসতে নিষেধ করা হলেও মাস শেষে পারিশ্রমিক নিয়ে যেতে বলেছি। কারণ মেয়েটি আমার বাসায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে। যদি এই দু:সময়ে ওকে এতটুকু সাহায্য না করি তাহলে কিভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকবে। শুধু হাফিজা খাতুন নয়, তার মত আরো অনেকেই কাজে না রাখলেও গৃহকর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

গৃহকর্মী বিউটি জানান, আমি কয়েকটি বাসায় কাজ করি। সকালে কাজে এসে সন্ধ্যায় যাই। আমার সামান্য আয়ের উপর চারজনের সংসার চলে। এখন কাজ নাই, এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে দিন পার হচ্ছে। শুধু আমি একা নই আমার মত যারা বাসা বাড়িতে কাজ করে তাদের সবারই একই অবস্থা।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা,  সামাজিক ও শারীরিক দুরুত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকা লক ডাউনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সকল সদস্যরা বাসা বাড়িতে অবস্থান করছেন। গৃহকর্মী না থাকায় বাসায় গৃহকর্ত্রীর নানা কাজে সহযোগিতা করছেন অন্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনেকেই তা প্রকাশ করছেন। এতে খুশি গৃহকর্ত্রীরাও। 

ইত্তেফাক/এসআই