অলিভিয়ার তোপে আগের দিনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কাল দ্বিতীয় সেশনে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের আগে ডুয়ানে অলিভিয়েরের পাঁচ উইকেট ছিল না একবারও। এক ম্যাচেই দুইবার পেয়ে গেলেন পাঁচ উইকেট। তার দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে দুইশ রানের নিচে থামিয়ে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ১৮১ রানে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ২২৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান দারুণ শুরু করেছিল। তারা পায় ১ উইকেটে ১০১ রানের দৃঢ় ভিত। ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫৭ রান করা ইমামকে বোল্ড করে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন অলিভিয়ের। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি সফরকারীরা। তারা শেষ ৯ উইকেট হারায় ৮৯ রানে।
এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন মাসুদ। কিন্তু অন্য প্রান্ত কেউ দিতে পারেননি সহায়তা। রানের খাতা খুলতে পারেননি আজহার আলী। দুই অঙ্কে যেতে পারেননি আসাদ শফিক ও বাবর আজম। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো শূন্য রানে ফিরেন সরফরাজ আহমেদ।
অসমান বাউন্স যেখানে খুব ভুগিয়েছে ব্যাটসম্যানদের সেখানে বেশ সাবলীল ছিলেন মাসুদ। হারিস সোহেলের চোটে হঠাত্ করেই সুযোগ পেয়ে যাওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ৬৫ রান। ১২০ বলের ইনিংসে ৭ চার ও এক ছক্কা হাঁকানো মাসুদকে থামান স্টেইন।
লোয়ার অর্ডারে আমিরের ১২ আর হাসানের ১১ রানে দুইশ’ রানের কাছাকাছি যায় পাকিস্তানের সংগ্রহ। আফ্রিদিকে ফিরিয়ে সফরকারীদের গুটিয়ে দেওয়ার সঙ্গে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নেন অলিভিয়ের। এই গতিময় পেসার প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। এবার ৫ উইকেট পেলেন ৫৯ রানে।
১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই এলগারের উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর তাদের ১১৯ রানের জুটি এনে দেন ডিন এলগার ও হাশিম আমলা। এরপর দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকা ৩টি উইকেট হারায়। কিন্তু হাশিম আমলার দৃঢ়তার কাছে হার মানেন পাকিস্তানি বোলাররা। আমলা শেষ পর্যন্ত ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান-১ম ইনিংস: ৪৭ ওভারে ১৮১/১০
এবং ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ১৯০/১০ (মাসুদ ৬৫, ইমাম ৫৭; অলিভিয়ার ৫/৫৯, রাবাদা ৩/৪৭, স্টেইন ২/৩৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬০ ওভারে ২২৩/১০ এবং ২য় ইনিংস: ৫০.৪ ওভারে ১৫১/৪ (আমলা ৬৩*, এলগার ৫০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।
ইত্তেফাক/কেআই
