ফরিদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মির্জা জাকিরের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও মাপে কম দেওয়ার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রঘুনন্দনপুর গ্রামে সহায়তা গ্রহণকারীরা জানান, শুরু থেকেই জাকির এক কেজি ও কারো দুই কেজি পর্যন্ত চাল কম দেন। পরে এই নিয়ে সেখানে বিক্ষোভ শুরু করে ত্রাণ প্রত্যাশীরা।
গোয়ালচামট এলাকায় ইছহাক নামের এক ব্যক্তি জানান, জাকির চাল কম দেওয়ায় আন্দোলন শুরু হলে মেয়র ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে প্রায় ৩০০ লোককে ১ বা ২ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়। মনির নামে একজন জানান কমপক্ষে ১০ জনের চাউল মেপে দেখেছি প্রায় ১ কেজি চাল কম ছিল প্রত্যেকের।
ফরিদপুর পৌর সভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু জানান, বুধবার দিন ব্যাপী ফরিদপুর পৌর এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডে ৫৪টি স্থানে ৬২ মেট্রিকটন চাল ১২ হাজার ৪০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ কেজি পরিমাণ চাল দেওয়া হয়, যা প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত।
তিনি জানান, চাল কম পাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর আমি নিজে থেকে পরে উপস্থিত সবাইকে ৫ কেজি করে চাল দেই।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা জানান, ফরিদপুর পৌর সভার এক নম্বর (সাবেক) ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মীর্জা জাকির হোসেন খোদাবক্স রোড়ে ও রঘুনন্দনপুর গ্রামে দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার সময় বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আফরোজ খসরু জানান, চাল কম দেওয়ার অভিযোগে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি ওজন পরিমাপের মেশিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালত হাতে নাতে না ধরে বিচার করতে পারে না, তাই সরকারি কাজ পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়ে।
ইত্তেফাক/আরএ
