খাতুনগঞ্জে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০২:৩১

দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠলেও বেচাকেনা থেমে নেই। সড়ক পথে পণ্য পরিবহন নিয়ে নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন পর বাণিজ্যিক খাল হিসেবে খ্যাত চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহনে সরব হয়ে উঠেছে। কম খরচে পণ্য চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

চাক্তাই খালের দুপাশে এখন পণ্যবাহী নৌযানের দীর্ঘ সারি। রমজান শুরুর আগে প্রতিবছরের মতো এবারও বাজার অস্থির। লকডাউনের কারণে সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। গাড়ির সংকটও দেখা দিয়েছে। তাই চট্টগ্রাম জেলাসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নৌপথে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই থেকে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। দেখা গেছে, জোয়ারের সময় খালের মোহনা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার ভেতরে নৌযান ঢুকে পণ্য পরিবহন করছে।

আবার ভাটার সময় মোহনা বাইরে পণ্য নিয়ে লোড করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সন্দ্বীপ, ভোলা, হাতিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া এলাকায় নৌপথে পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা বলেন, গাড়ি সংকটে নৌপথে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। এতে পরিবহন খরচও কম পড়ে। রমজানে পণ্যের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে পাইকারি ও খুচরা বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পণ্যের দামই দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। টিসিবির পণ্যের চেয়ে বাজারে বিক্রিত পণ্যের দাম কেজিতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল ইত্তেফাককে বলেন, আমদানি করা পণ্য আমরা দ্রুত পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছি। তবে ব্যবসায়ীরা বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে গড়িমসি করছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে নাকি বন্দর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া পণ্য ডেলিভারি যথাসময়ে হচ্ছে না।’

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতারা ছোলা ও মসুর ডাল আমদানি কম হওয়ার অজুহাত তুলে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। অথচ প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। দেখা গেছে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে ২৯ হাজার ৯৭১ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছে। আর মার্চ ও এপ্রিলে ছোলা এসেছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

এছাড়া মার্চ ও এপ্রিলের আগে আরো প্রচুর মসুর ও ছোলা আমদানি হয়েছে। তারপরও পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। দফায় দফায় বাড়াচ্ছে পণ্যের দাম। গতকাল পাইকারি বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে মানভেদে মণ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ গত সপ্তাহে মণপ্রতি ২১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মসুর ডাল নিয়ে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেজি ৫০ টাকার মশুর ডাল চার/পাঁচ দিনের মাথায় দাম বেড়ে ৮৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এলাচ জাতীয় পণ্য নিয়ে কারসাজি চলছেই। খাতুনগঞ্জের পাঁচ/ছয় জন আমদানিকারকের কাছে মসলার বাজার জিম্মি। দেশের শীর্ষ স্থানীয় মসলা জাতীয় পণ্য আমদানিকারক অমর কান্তি দাশ ইত্তেফাককে বলেন, আমদানি না হওয়ায় এলাচের দাম বেড়েছে। ভারত থেকে জিরাও আসছে না। মূলত :করোনার প্রভাবে আমদানি না হওয়ায় এলাচসহ মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।’পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও চীন থেকে এসব পণ্য আমদানি কমে গেছে। আবার বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারিও হচ্ছে না। পরিবহন সংকটে পণ্য ডেলিভারি কম হওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।’

ইত্তেফাক/এসআই