করোনা প্রভাবে দেশের চাটমোহর ও ডিমলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। তাদের দোকান ও ব্যবসা বন্ধ। ঘরে খাবার নেই। টাকা-পয়সাও নেই। আবার কারো কাছে তারা কিছু চাইতেও পারছে না। দেশের কয়েকটি স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা জানিয়েছেন—
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পাবনার চাটমোহর উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। থমকে গেছে তাদের জীবনযাত্রা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে উপজেলার প্রায় ১০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাদের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেকেই ঘর ভাড়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। চাটমোহর পৌর এলাকায় প্রায় ১ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
এছাড়া উপজেলার হান্ডিয়াল, বাঘলবাড়ি, সমাজ, নিমাইচড়া, মির্জাপুর, চিনাভাতকুর, বরদানগর, ছাইকোলা, কাটেঙ্গা, ধানকুনিয়া, রামনগর, ধুলাউড়ি, চরপাড়া, নটাবাড়িয়া, হরিপুর, চড়ইকোল, কাটাখালী, কামালপুর, বামনগ্রাম, পাচুরিয়া, মুলগ্রাম, রেলবাজার, আটলংকা, ফৈলজানা, শরত্গঞ্জ, কুয়াবাসী, হিরিন্দা, লক্ষ্মীপুর, পার্শ্বডাঙ্গা, বনগ্রাম, মহেলা, গুনাইগাছাসহ বিভিন্ন বাজারে ১০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন।
এর মধ্যে চায়ের দোকানি, মুদি দোকানি, সেলুন, সাইকেল মেকার, মোবাইল সার্ভিসিং, টেলিভিশন মেরামতকারী, গার্মেন্টস দোকান, ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকান, ছোটো ছোটো খাবারের দোকান উল্লেখযোগ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকছে সার্বক্ষণিক। স্থবির হয়ে পড়েছে এসব ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রা।
চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা অপ্রতুল। গোটা উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। মূলধন হারাচ্ছে ঘরে বসে থেকে। চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আ. মুতালিব এ পরিস্থিতিতে অন্তত এক মাসের দোকান ভাড়া মওকুফের আহ্বান জানিয়েছেন ঘর মালিকদের প্রতি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খাবার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর ডিমলায় করোনা ভাইরাসের কারণে অফিস আদালত দোকানপাট, মিনি ফ্যাক্টরি, রিকশা, ভ্যান বন্ধ থাকায় এবং সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লোক সমাগম নিষেধ থাকার কারণে উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার শ্রমিক শ্রেণির মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্ত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে অঘোষিত লকডাউন হওয়ায় উপজেলার খেটে খাওয়া কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে ঘরে বসে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলায় ইতিমধ্যে সরকারিভাবে যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উপজেলার হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, দোকান শ্রমিক, রিকশা ভ্যান শ্রমিক, অটো শ্রমিক, স-মিল শ্রমিক, কুলিমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, সেলুন ব্যবসায়ী ও ছোটো ছোটো দোকান মালিকরা বলেন, গত প্রায় এক মাস ধরে আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। সরকারিভাবে যারা কেউ কেউ কিছু ত্রাণ পেয়েছে, তা দিয়ে কয়েক দিন চলেছে। বর্তমানে আমরা খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বলছে, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ছোটোখাটো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয় রোজগার একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অতিকষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। লোকলজ্জার ভয়ে না পারছি ত্রাণ চাইতে, না পারছি পরিবার পরিজন নিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে দিন কাটাতে।
ডিমলা উপজেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরান চন্দ্র রায় বলেন, আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁর কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকার কারণে আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতির কথা ভেবে সরকার খাদ্যসামগ্রী সকলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করছে। ইতিমধ্যে উপজেলায় সরকারিভাবে ৯২ মেট্রিক টন চাল ও প্রায় ৫ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্যের জন্য ১ লাখ ৭ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। যার ৮০ মেট্রিক টন চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী অসহায় ৮ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আবারও ১ হাজার ২০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
