রেড এলার্টের মধ্যেও হরিণ শিকার অব্যাহত

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৩২

পূর্ব সুন্দরবনে রেড এলার্টের মধ্যেও হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম অব্যাহত রয়েছে। গত তিনদিনে লোকালয় থেকে দুটি হরিণ ও হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগ বৃহস্পতিবার বিকেলে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রাম থেকে ১০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে। 

পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন শরণখোলা স্টেশনের বনরক্ষীরা শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের লাগোয়া সোনাতলা গ্রামে অভিযান চালান। অভিযানে ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ির পাশের গোবরের স্তুপ থেকে ককশিটে বক্সে  ভরা ওই হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।  

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এ ব্যাপারে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাংস আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মাটি চাপা দেয়া হবে। এ দিকে শুক্রবার ও গত বুধবার রাতে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দুটি গ্রাম থেকে দুটি জীবিত হরিণ গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন। শুক্রবার ভোরে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের কাছে মাথাভাঙ্গায় মসজিদ থেকে ফজরের নাম পড়ে বেরিয়ে আসার পথে মুসল্লিরা একটি হরিণ দেখতে পান। পরে হরিণটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলে সুন্দরবন বন বিভাগের জ্ঞানপাড়া বন অফিসের কর্মীরা তা নিয়ে গিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।

আরো পড়ুন : করোনার তথ্য প্রচারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেল

বুধবার রাতে সাপলেজার কাছে জেলেরা নদীতে সাতারকাটা অবস্থায় একটি হরিণ উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। ইউপি চেয়ারম্যান হরিণটি বন বিভাগের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ধারণা এ হরিণ দুটি চোরা শিকারীরা সুন্দরবন থেকে ধরে এনেছিলো এবং শিকারীদের কাছ থেকে ছুটে যায়।     

সম্প্রতি হরিণ শিকারিদের ততপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্ব সুন্দরবনে রেড এ্যলার্ট জারি ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইউবি