করোনায় কক্সবাজারে প্রথম প্রাণ হারালেন রামুর বৃদ্ধা ছেনুআরা

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ০২:১২

করোনা শনাক্তের ৬ ঘন্টার মাথায় মারা গেলেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা রামুর বৃদ্ধা ছেনুআরা বেগম (৬৫)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ২ দিন ধরে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধিন ছিলেন তিনি এবং বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ এসেছি। এদিন একদিনে কক্সবাজারের ল্যাবে পরীক্ষায় চলতি সময়ে সর্বোচ্চ ১৭জনের করোনা পজিটিভ এসেছিল। তার মাঝে বৃদ্ধা ছেনুয়ারাও একজন।   

ছেনুআরা বেগম রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারখোপ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল্লাহর স্ত্রী।

ছেনুআরা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমার ছেলে জসিম উদ্দিন ভরসা।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা নিয়ে গত দুদিন ধরেই ছেনুআরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনার লক্ষ্মণ থাকায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার ১২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় তারটাও ছিল। রিপোর্টে তার (ছেনুআরার) করোনা পজিটিভ আসে। বেলা ২-৩টার দিকে ল্যাবের রিপোর্ট আসার ৫-৬ ঘন্টার মাথায় ছেনুআরা বেগম মারা যান। এটি কক্সবাজার জেলায় করোনায় প্রথম মৃত্যু। 

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানিয়েছেন, করোনায় মৃত ছেনুয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন করার জন্য ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর কাফন-দাফন কমিটি কাজ শুরু করেছে। 

এদিকে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার একদিনে ১৭ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এটি ল্যাবের কার্যক্রম শুরুর এক মাসের মাথা এটিই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়ার রেকর্ড। এদিন ১২৩ সন্দেহজনক রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়।          

মাসের শেষ দিনে করোনা শনাক্ত ১৭ জনের মাঝে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৫ জন, পেকুয়ায় দুইজন, চকরিয়ায় ৪ জন ও উখিয়ায় দুইজন রয়েছেন। এছাড়াও পার্বত্য বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ির তিনজন ও বান্দরবান সদরের রয়েছে একজন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

সুত্র মতে, এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই জেলার বাইরে থেকে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই এসেছেন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে। এদের মধ্যে দুইজন মাছ ও অন্যজন আম ব্যবসায়ী, দুইজন তাবলীগফেরত এবং একজন গার্মেন্ট কর্মী এবং একজন রিক্সা চালকও রয়েছেন। তবে টেকনাফের এক নারী চিকিৎসক উপজেলা হাসপাতালে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন। এখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মাধ্যমে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করে গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়। এতে প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন, ১৬ এপ্রিল ৪১ জন, ১৭ এপ্রিল ৩৯ জন, ১৮ এপ্রিল ১৩ জন, ১৯ এপ্রিল ৬৩ জন, ২০ এপ্রিল ৫১ জন, ২১ এপ্রিল ৪০ জন, ২২ এপ্রিল ৬৪ জন, ২৩ এপ্রিল ৫৩ জন, ২৪ জন ১০১ জন, ২৫ এপ্রিল ১৮ জন, ২৬ এপ্রিল ১০০ জন, ২৭ এপ্রিল ১২২ জন, ২৮ এপ্রিল ৭৬, ২৯ এপ্রিল ৯৫ জন ও ৩০ এপ্রিল ১২৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা গত একমাসে এক হাজার ২৪৯ জন। এদের মধ্যে ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।


ইত্তেফাক/আরকেজি