রাজশাহী কারাগারের আরও ৬৫ কয়েদী মুক্তির পাচ্ছেন

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০৮:৫২

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের আরও ৬৫জন কয়েদিকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার। রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এই নির্দেশনা পেয়েছে। এর আগে ৩৩ কয়েদীকে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা মোতবেক গত শনি ও রবিবার সন্ধ্যায় যথাক্রমে ১৭ ও ২১ কয়েদীকে মুক্তি দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একজন নারী, বাকিরা পুরুষ।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা কয়েদীদেরই মুক্তি দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কারাগারের নিজস্ব চিকিৎসকের মাধ্যমে কয়েদীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার রোধে কারাগারগুলোতে ভিড় কমাতে সরকার লঘু অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ২ হাজার ৮৮৪ কয়েদীর সাজা মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন ধাপে কয়েদীদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে। গত শনিবার প্রথম ধাপে রাজশাহীর ৩৩ কয়েদীর এবং রবিবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৫ কয়েদীর মুক্তির চিঠি পান। যাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছর, কিন্তু ছয়মাস বা তারও বেশি সাজা খেটেছেন, এমন কয়েদীরা সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ৩৮ কয়েদী মুক্তি পেয়েছেন, বাকী ৬০ জন মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। যারা মুক্তি পাচ্ছেন তাদের আর আদালতে যেতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু কারাদণ্ড মওকুফ করেছে। জরিমানা মওকুফ করেনি। যাদের আদালত শুধু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে, জরিমানা করেনি, তাদের ইতোমধ্যে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আর আদালত যাদের জরিমানা করেছে, তাদের স্বজনরা জরিমানা পরিশোধ করলেই মুক্তি পাবেন। ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জরিমানার অর্থ ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েদীর স্বজনদের প্রতারক সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েই যেন সংশ্লিষ্টরা নির্দিষ্ট চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জরিমানার টাকা জমা দেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪৫০জন। কিন্তু রবিবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর (হাজতি-কয়েদিসহ) সংখ্যা ৩ হাজার ৬১০। যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।

ইত্তেফাক/আরকেজি