রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি: জীবন, জীবিকা এবং শিক্ষা

আপডেট : ১০ মে ২০২০, ১০:২১

করোনার শীতল প্রভাবে একের পর এক বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বন্ধ রয়েছে পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শিল্প-প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে বড় বড় সব আন্তর্জাতিক আয়োজন এমন কি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। স্কুল, কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে জীবন যাত্রার উপর প্রভাব পড়ছে। 

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম বলছে এর ফলে চাকরি হারাতে পারেন অসংখ্য মানুষ। খেতে না পেয়ে দুর্ভিক্ষে মরতে পারে বহু মানুষ। শুধু কি তাই, জেপি মর্গানের মতে, পরপর আগামী দুই প্রান্তিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দেবে করোনার প্রভাবে?

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে সবার আগে মানুষের জীবন, কেননা জীবনতো একটাই, জীবন বিনা সবই অর্থহীন। করোনাভাইরাসের নিষ্ঠুর থাবা থেকে তাই আগে জীবনকে বাঁচাতে হবে। মানতে হবে বিধি নিষেধ, থাকতে হবে ঘরে। বাঁচতে হলে মানতে হবে। নিজের হাতেই নিজের সুরক্ষা। 

জীবন বাঁচানোর এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে, ব্যক্তিগত দূরত্ব মেনে চলতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং আত্মীয় স্বজনদের সচেতন রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। একইসাথে জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে নিজের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। কিছুদিন পর খাবার পাওয়া যাবে না এমন চিন্তা পরিহার করে নিত্য পণ্যের বাজারের উপর চাপ কমাতে হবে। নিজের প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ নিতে হবে।

অনেকেই এখন ঘরে বসে ইউটিউব দেখে বাহারী যাতের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত এবং তিন বেলতেই ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন। ভেবে দেখুন আপনার এই বিলাসিতার ভেতর দিয়ে খানিকটা অপচয় হচ্ছে নাতো? পাশেই হয়তো একজন বাস করেন যিনি না পারেন বলতে না পারেন সইতে। আপনার বিলাসিতা থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু অংশ হয়তো অন্যজনকে স্বস্থি এনে দিতে পারে। 

সবচেয়ে দুরবস্থা খেটে খাওয়া মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের, যাদের বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না। এমনও শোনা যায় কৃচ্ছতা সাধনের উদ্দেশ্যে ঐসব পরিবারের সিনিয়র সিটিজেনরা পবিত্র রমজান মাস আসার আগেই রোজা রাখছেন। ফেসবুক এবং অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন যে সুন্দর সুন্দর রেসিপির ছবি দেখছি তার পরিবর্তে যদি জীবন ও জীবিকা রক্ষার গল্প, ছবি, খবর কিংবা ভিডিও আসতো তাহলে অন্যরাও উত্সাহিত হতো।

এ যাত্রায় বেঁচে যাবার পর আসে শিক্ষার প্রসঙ্গ, ২৫ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বিশ্বের প্রায় ১.৭২৩ বিলিয়ন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত (সূত্র: উইকিপিডিয়া)। 

ইউনেস্কোর মতে, ১৯১টি দেশ জাতীয়ভাবে এবং ৫টি দেশ স্থানীয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে বিশ্বের মোট শিক্ষার্থীর ৯৮.৪ ভাগের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন আয় কমে গিয়ে ব্যয় বাড়ার কারণে শিক্ষায় ঝরে পড়া বাড়বে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠে ধরে রাখার জন্য দেশব্যাপী অনলাইন স্কুলিং শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঘরে অবস্থানের এই সময়টিতে পড়াশোনার পাশাপাশি Netucation, Netiquette, Digital Presence এবং Digital Education Leader এর মতো বিষয়গুলোর চর্চা করা যেতে পারে। 

তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তির নিরাপদ, নৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার, ডিভাইস ব্যবহারের নিয়ম ও সতর্কতা, নৈতিকতা, নিয়ম-কানুন, করণীয়-বর্জনীয়, ঘরের কাজে বাবা-মাকে সাহায্য, গল্প বলার আসর, ধাঁধা’র আসর ইত্যাদির অনুশীলন করা যেতে পারে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ