মুন্না-তৈয়বের জার্সি বিক্রি হলো ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

আপডেট : ১০ মে ২০২০, ১৫:৩২

করোনা ভাইরাসে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে নিলামে তোলা হয়েছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কিং ব্যাক খ্যাত মোনেম মুন্নার জার্সি। জাতীয় দলের স্মৃতিবিজড়িত জার্সির পাশাপাশি আবাহনীর হয়ে খেলা জার্সিও বিক্রি নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়। ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় এই জার্সি দুটি।

এছাড়া বাংলাদেশের সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসানের নিলামে তোলা জার্সিও বিক্রি হয়েছে। এই পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতায়।

মোনেম মুন্না। ক্ষণজন্মা একজন ফুটবলার। যার সম্পর্কে আক্ষেপ করে জাতীয় দলের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টার বলেছিলেন, হি ওয়াজ মিসটেকেনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ। তার এই উক্তিই বলে দেয়, কতো বড় মাপের তারকা ফুটবলার ছিলেন মুন্না।

দেশের ফুটবলে ইতিহাসে তো বটেই, উপমহাদেশেরও সেরা ডিফেন্ডারদের একজন মোনেম মুন্না। দক্ষ নেতৃত্ব আর দুর্দান্ত পেশাদারিত্বের এক জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন তিনি। যার হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবল পেয়েছিল অনন্য কিছু সাফল্য। কিডনি রোগে মাত্র ৩৭ বছরে বয়সে অকাল প্রয়াণ হয় কিং ব্যাক খ্যাত মুন্নার। তবে এখনো ভক্ত-সমর্থকদের স্মৃতির মানসপটে রয়ে গেছেন মোনেম মুন্না।

ফুটবলের মুন্না হারিয়ে যাননি। তার প্রমাণ মিলেছে আবারো। করোনার মতো মহামারির এই সময়েও কারো কারো জন্যে মুন্না যেন হাজির হয়েছেন আশীর্বাদ হয়ে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে এবার নিলামে বিক্রি হলো জাতীয় দলের এই তারকা ফুটবলারের জার্সি। 'অকশন ফর অ্যাকশন' নামক ফেসবুক পেইজে তার জার্সি নিলামে তোলা হয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলা ২ নাম্বার জার্সিটি বিক্রি হয় তিন লাখ টাকায়। যেটি গায়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে খেলেছিলেন মোনেম মুন্না। এই জার্সিটি কিনেছে দেশের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় দলের জার্সি ছাড়াও মুন্নার আবাহনীর হয়ে খেলা ১৩ নাম্বার জার্সিও বিক্রি হয়। যা নিলাম ছাড়াই কিনে নেন এক ব্যাংক কর্মকর্তা।

প্রিয় মানুষের জার্সি নিলামে তোলার পর মুন্নার স্মৃতি নিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তার স্ত্রী এবং সাবেক সতীর্থরা। জার্সি বিক্রির টাকা করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হবে বলে জানান মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেম।

এদিকে, মোনেম মুন্না ছাড়াও বাংলাদেশের সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসানের জার্সি নিলামে তোলা হয়েছিল। যে জার্সি পড়ে ২০১৩ সালে সাফ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। এটি বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়।এর ভিত্তি মূল্য ছিল ২ লাখ টাকা।

ইত্তেফাক/এসআই