জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ কার্যালয়ের উদ্যোগে একসেস টু ইনফরমেশনের সহযোগিতায় (এটুআই) করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য চালু করা হলো অনলাইন বিক্রয় সেবার ডিজিটাল প্লাটফর্ম আনন্দমেলা। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
জানা গেছে, আনন্দমেলা ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতা এবং বিক্রা উভয়ই সরাসরি সংযুক্ত হতে পারবেন। আর করোনা মহামারির এমন পরিস্থিতিতে কোন রকম ঝুঁকি ছাড়া ঘরে বসেই ক্রেতাদের ঈদের কেনাকাটা করতে সাহায্য করবে এই ডিজিটাল প্লাটফর্ম। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা করোনা ভাইরাসের কারণে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন আনন্দমেলা.শপের সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, কোন রকম খরচ ছাড়াই আনন্দমেলায় ক্রেতা বিক্রেতারা ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৫ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তাদের পণ্য আনন্দমেলা ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশি আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, কোভিড-১৯ দুর্যোগক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছে সেটি কমানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনলাইন বিক্রয় সেবা ‘আনন্দমেলা’র যাত্রা উদ্বোধন করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার মডেলগুলো আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আনন্দমেলা ডিজিটাল প্লাটফর্ম ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আনন্দমেলা ডিজিটাল প্লাটফর্মে পণ্য সরবরাহ ও যোগানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে এই অনলাইন বিক্রয় সেবা এসএমই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, করোনার প্রভাবে যখন সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে স্থবিরতা ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এমনই একটি সংকটময় সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশে সরকারের এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় ইউএনডিপি আনন্দমেলা বিক্রয় কেন্দ্রের সূচনা করেছে, যা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে স্থবির ও অচলপ্রায় অর্থনীতির চাকা সচল হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সাথে বাংলাদেশের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী যুক্ত। এ উদ্যোগের ফলে হারানো মনোবল ফিরে পেয়ে ওই শ্রেণীর জনগণ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
স্পিকার বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতেও ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন, যা তাদের জীবনযাত্রায় আনবে ইতিবাচক পরিবর্তন। শুধু করোনা পরিস্থিতি কিংবা ঈদকে সামনে রেখে নয়, বরং স্বাভাবিক সকল সময়ে আনন্দমেলা প্লাটফর্মটি চলমান রাখার পরামর্শ দেন স্পিকার।
এমন একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য ইউএনডিপি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে ডিজিটাল প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা রয়েছে। আর এই কাজের সঙ্গে জড়িতে রয়েছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে যাওয়ায় তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ইত্তেফাক/এআর
