বিশ্বকাপের বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবছেন ডু প্লেসি

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ০৯:৫৬

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যদিও অস্ট্রেলিয়াতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তারপরও সারা বিশ্বের পরিস্থিতির কারণে সংশয়ে পড়েছে এই বিশ্বকাপের আয়োজন। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি বলেছেন, আয়োজকরা চাইলে খেলোয়াড়দের দুই সপ্তাহ আইসোলেশনে রেখে তারপর খেলা শুরু করতে পারে নিরাপত্তার কথা ভেবে।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন ডু প্লেসি। সেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে একথা বলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান।

অক্টোবর থেকে নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিশ্বকাপ। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট বাতিল হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। এই অবস্থায় আইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডু প্লেসি বলেছেন, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই। এটা পড়লাম যে, অনেক দেশের জন্য ভ্রমণ একটা বড়ো সমস্যা হবে। অনেকে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে এটা (বিশ্বকাপ) আয়োজনের কথা বলছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সেভাবে আক্রান্ত নয়। তারপরও বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ভারতের মতো যেসব দেশে ঝুঁকি বেশি, সেখান থেকে খেলোয়াড় গেলে তাদের (অস্ট্রেলিয়ার) জন্যই ঝুঁকি।’

এই অবস্থায় ডু প্লেসি বলছিলেন, একটা ভালো সমাধান হতে পারে, সব খেলোয়াড়কে আগে দুই সপ্তাহ আইসোলেশনে রাখা, ‘আপনি ওখানে টুর্নামেন্টের দুই সপ্তাহ আগে যেতে পারেন। তারপর আইসোলেশনে থাকতে পারেন। তারপর টুর্নামেন্ট খেলে ফিরে এসে আবার দুই সপ্তাহ আইসোলেশনে থাকতে পারেন। তবে আমার জানা নেই যে, দক্ষিণ আফ্রিকা কবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। আমরা তো আর এখন আগের কালের মতো নৌকায় করে যেতে পারবো না।’

বিশ্বকাপ খেলার জন্য খুবই আগ্রহী ডু প্লেসি। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপটা একেবারেই ভালো যায়নি তাদের। বিশ্বকাপ মানেই অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য স্বপ্নভঙ্গ। এর মধ্যে ডু প্লেসির কাছে বেশি কষ্টের হয়ে আছে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপটা। সেবার সেমিফাইনাল থেকে হেরে বিদায় নিয়েছিলেন তারা।

ডু প্লেসি ১০৭ বলে ৮২ রান করেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এক বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে যায় নিউজিল্যান্ড। তিনি তামিমের শোতে বলছিলেন, ‘আমি আমার জীবনে ক্রিকেট খেলার পর কখনো এতো ভেঙে পড়িনি। ক্রিকেট খেলায় তো জয়-পরাজয় থাকবেই। হারলে সবসময়ই হতাশা লাগে। কিন্তু ঐ ম্যাচের পর আমি অনেক বয়স্ক মানুষকেও ভেঙে পড়তে দেখেছি। আমার সতীর্থরা অনেকে কাঁদছিল।’

নিজেদের সেই হতাশার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডু প্লেসি বিস্তারিত করে বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুম একেবারে ভেঙে পড়েছিল। আমাদের ঐ অবস্থায় আরো দুই দিন ওখানে থাকতে হয়েছিল। কারণ এর মধ্যে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরার ফ্লাইটও পাচ্ছিলাম না। আমরা সতীর্থরা পরস্পরের সঙ্গে চোখও মিলাচ্ছিলাম না।’