বায়ু প্রবাহকে আমরা কী কী কাজে ব্যবহার করতে পারি, বলো

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২১:০০

বিজ্ঞান

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক

সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

অধ্যায়টি ভালোভাবে প্রথমে পড়ে নেবে।

বায়ু

১) ভেজা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব শুকানো প্রয়োজন। কিন্তু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের ভেতর কীভাবে আমরা দ্রুত কাপড় শুকাতে পারি ?       

উত্তর : ঘরের ভেতরে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে আমরা দ্রুত কাপড় শুকাতে পারি।

বৃষ্টিতে বাইরে ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়া যাবে না। তাই ঘরের ভেতরে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে কাপড় ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যাবে। কারণ বায়ুপ্রবাহ ভেজা কাপড় থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে নিতে সাহায্য করে। ঘরের ভেতরে কাপড় ছড়িয়ে দিয়ে বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়ে বা দরজা জানালা খুলে দিয়ে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করলে কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যাবে।

২) রিসাইকেল প্রক্রিয়া কীভাবে বায়ু দূষণ কমাতে পারে ?                           

উত্তর : রিসাইকেল প্রক্রিয়া বলতে ব্যবহারকৃত বস্তু সমূহকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাকে বোঝায়। বিভিন্ন প্রকার প্লাস্টিকের বস্তু যেমন— কাগজ, খাবারের বাক্স, পানির বোতল, পারফিউমের বোতল প্রভৃতি একবার ব্যবহার হয়ে গেলে আমরা ফেলে দেই। কিন্তু এসব বস্তু দৈনন্দিন জীবনে দরকারি বলে আবার উত্পাদন করতে হয়। এই উপাদান জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করায় তা বায়ু দূষণ ঘটায়। এছাড়া ফেলে দেওয়া দ্রব্যসমূহ আবর্জনা রূপে পরিবেশকে দূষিত করে। তাই এসব প্লাস্টিক বস্তু রিসাইকেল করে ব্যবহার করলে নতুন করে খুব বেশি উত্পাদন করা প্রয়োজন পড়ে না। ফলে জ্বালানি কম ব্যবহার হওয়ায় পরিবেশও কম দূষিত হয়। এভাবে রিসাইকেল প্রক্রিয়া বায়ু দূষণ কমাতে পারে।

৩) কী কী কারণে বায়ু দূষিত হয় ? মানুষ কীভাবে বায়ু দূষণ করছে ?

উত্তর : বিভিন্ন ধরনের পদার্থ যেমন— রাসায়নিক পদার্থ, গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া অথবা দুর্গন্ধ বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে। মানুষ বিভিন্নভাবে বায়ু দূষিত করছে। যেমন—

মানুষ কলকারখানা চালাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করছে।

মানুষ তার প্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহার করছে। ফলে এ থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষিত করছে।

মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ও মলমূত্র ত্যাগ করে; এর ফলে বায়ু দূষিত হচ্ছে।

অতিরিক্ত প্রশ্ন:

১.বায়ু প্রবাহকে আমরা কী কী কাজে ব্যবহার করতে পারি তা পাঁচটি বাক্যে লেখ।         

উত্তর : বায়ু প্রবাহকে আমরা যে সকল কাজে ব্যবহার করতে পারি সেগুলো হলো—

১.বড় চড়কা বা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনে।

২.হাতপাখা বা বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে।

৩.নদীতে পালতোলা নৌকা চালাতে।

৪.কোনো ভেজা বস্তুকে শুকাতে।

৫.ভেজা চুল শুকাতে।

২.বায়ুর একটি গ্যাস উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য এবং অপর একটি গ্যাস প্রাণীর শ্বাস গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয়। উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রয়োজনীয় গ্যাসটির দুটি ও প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসটির তিনটি ব্যবহার লেখ।                                                               

উত্তর : উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য ব্যবহূত গ্যাসটি হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড। এর দুটি ব্যবহার হলো—

১.আগুন নেভানোর জন্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।

২.বিভিন্ন কোমল পানীয়তে ঝাঁঝালোভাব ধরে রাখার জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়।

প্রাণীর শ্বাস গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসটি হলো অক্সিজেন। এর তিনটি ব্যবহার হলো—

১.শ্বাসকষ্টের রোগীদের সহজে শ্বাস নেওয়ার জন্য সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

২.পর্বতারোহীরা সাথে করে নেওয়া সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

৩.নদী বা সমুদ্রের নিচে শ্বাস নেওয়ার জন্য ডুবুরিরা সিলিন্ডার করে অক্সিজেন নেয়।