দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় এবার পাশের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা। এই বোর্ডে এবার পাশের হার ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৬ জন। গত বছর পাশের হার ছিলো ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন। তবে ফেল করার সংখ্যাং নেহাত কম নয়। এই সংখ্যা ৩৩ হাজারেরও বেশি। এদিকে করোনাকালে ঘরে বসে ফলাফল পাওয়ায় খুশি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. তোফাজ্জুর রহমান জানান, এই বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার দুই হাজার ৬৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৯১ হাজার ৮২১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাশ করেছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৫ জন। পাশের হার ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন।
আরও পড়ুন: লোকালয়ে ৬ ফুট অজগর
এবার পাশের হারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। মোট ৯২ হাজার ৯৮৮ জন মেয়ের মধ্যে পাশ করেছে ৭৮ হাজার ৩০৮ জন। মেয়েদের পাশের হার ৮৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর মোট ৯৮ হাজার ৮৩৩ জন ছেলের মধ্যে পাশ করেছে ৮০ হাজার ২৭৭ জন। ছেলেদের পাশের হার ৮১ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৩২৬ জন এবং ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৬০ জন।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট দুই হাজার ৬৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে ১২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও পাশ করতে পারেনি।
এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানিয়েছেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছেন ৩৩ হাজার ১৩৬ শিক্ষার্থী। বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান এ তথ্যটি জানিয়েছেন।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে এই শিক্ষাবোর্ড এবছর গড় পাসের হার ৮২.৭৩ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৮৪.১০ শতাংশ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, এবছর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে এবার পাশের হার কমলেও জিপি-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা বেড়েছে। দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে এবার ৩৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেনি। যারা ফেল করেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ গণিতে ফেল করেছে। স্কুলগুলোতে মাস্টার ট্রেইনার শিক্ষকের অভাবে এই ফল বিপর্যয় হয়েছে। আগামী দিনে ছাত্রদেরকে গড়ে তুলতে গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, এ বছর শতভাগ পাসকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২২, যা গতবার ছিল ১৩৮টি। কেউই পাস করেনি এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা একটি। এবার গড় পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে। ১২ হাজার ৮৬ জন এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ৩ হাজার ৬৩ জন বেশি পেয়েছে। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করেছে।
ইত্তেফাক/এসি
