সিলেটে আর কোন রোগীকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ছাড়া ফিরিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকরা। সোমবার ( ৮ জুন) সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল ওনার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। গত সপ্তাহে সিলেটে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে অন্তত: ৪ জনের মৃত্যুর হয়। এনিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রাইভেট হাসপাতালগুলো।
এদিকে সোমবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের এ সংগঠন। দুপুরে নগরীর একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে ডা. নাসিম বলেন, গত সপ্তাহে তিনজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য আমাদের বেসরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো প্রস্তুত নয়। প্রতিটি হাসপাতালের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ একটি। ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিলে অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরই নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জন্য নিবেদিত করার প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এ প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেনি। যদিও ঢাকার অনেকগুলো ও চট্টগ্রামের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থায় কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু সিলেটে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ডা. নাসিম বলেন, এ অবস্থায় রবিবার এসোসিয়েশনের জরুরী সভায় মাউন্ট এডেরা হাসপাতাল ও নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এই দুটি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালে রোগী গেলে তাদের আইসোলেশনে রেখে অক্সিজেন প্রদান করে রোগীর পছন্দমত কোভিড-১৯ চিকিৎসার হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কট থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় ক্ষেপণ হয়েছে।
এছাড়া আমরা আশা করেছিলাম, সরকার আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে দুএকটি বেসরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করবে। সংবাদ সম্মেলনে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রণোদনা ও স্বাস্থ্য সামগ্রী প্রদানের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এসআই
