রাণীনগরে ব্র্যাকের কিস্তির চাপে শ্রমিকের ‘আত্মহত্যা’, 'প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন' দাবি ব্র্যাকের

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ১৯:২৫

নওগাঁর রাণীনগরে ব্র্যাকের ঋণের কিস্তির চাপের কারণে ছাইদুল ইসলাম (৫০) নামে এক দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছাইদুল ইসলাম উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের মৃত-আয়েত আলী শেখের ছেলে। রবিবার রাতে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান।

‘রানীনগরে ব্র্যাকের কিস্তির চাপে শ্রমিকের আত্মহত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ছাইদুল ইসলামের ভাই রহিদুল ইসলাম জানান, ব্র্যাক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ছাইদুল। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশ লকডাউন থাকার কারণে তাকে কয়েক মাস কোনো কিস্তি দিতে হয়নি। গত শনিবার ব্র্যাক কর্মীরা এসে ছাইদুলকে রবিবারে কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমার ভাইয়ের তেমন কোনো কাজকর্ম না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তার দিনকাল খুব ভালো যাচ্ছিলো না। 

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যেখানে প্রধানমন্ত্রী সকল প্রকারের এনজিওদের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন অথচ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন এনজিওরা তাদের কিস্তি আদায়ের কাজ করে আসছে। এই কর্মকান্ড যদি বন্ধ রাখা না হয় তাহলে কর্মহারা অনেক অসহায়, দিনমজুর ও হতদরিদ্ররা কিস্তির চাপ থেকে বাঁচার জন্য এভাবেই নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কারো বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্র্যাক। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার মাহবুবুল আলম কবীরের প্রেরিত প্রতিবাদ পত্রে লেখা হয়, 'উক্ত ছাইদুল ব্র্যাকের কাছ থেকে কোনো ঋণ নেননি। তিনি ওই এলাকায় ব্র্যাকের গ্রাম সংগঠনের সদস্য জুলেখার স্বামী। উক্ত সদস্যা বিগত ১০/১২ বছর যাবৎ ব্র্যাকের সাথে লেনদেন করছেন। গত জানুয়ারিতে তিনি ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কিস্তি প্রদান করেন। পরে করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে এপ্রিল মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত তার নিকট থেকে কোন কিস্তি নেওয়া হয়নি এবং কোনোরকম চাপও প্রয়োগ করা হয়নি।'

প্রতিবাদ পত্রে আরো বলা হয়, "খবরে লেখা হয়েছে, ‘শনিবারে ব্র্যাকের কর্মী তার বাড়িতে যায় এবং কিস্তির জন্য চাপ দেয়।’ কিন্তু এই তিন মাসের মধ্যে ব্র্যাকের কোনো কর্মী ওই সদস্যার বাড়িতেই যায়নি, কিস্তি আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া ব্র্র্যাক অফিস শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। প্রথমদিকেই আত্মহত্যার খবরটি দেওয়া হয়েছে পুলিশের বরাতে। তারপর ১ লাখ টাকা ঋণ ও চাপপ্রয়োগের কথা লেখা হয়েছে মৃত ব্যক্তির ছোটভাইয়ের অভিযোগে। অথচ জনাব ছাইদুল ঋণগ্রহীতা, আর সেই ঋণের পরিমাণ ১ লাখ টাকা- এ দুটো তথ্যের কোনোটাই সঠিক নয়।"

ইত্তেফাক/এএম