গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা 

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ১৭:১২

গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলীর (৫০) বিরুদ্ধে তার নিজ বাড়ির কিশোরী গৃহকর্মীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা সদর থানায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর দাদি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষক সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নওহাটী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়ায় নিজ বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। 

ওই কিশোরীর বাবা জানান, শিক্ষক ইউনুস আলী সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই। ইউনুস প্রায় ৩ বছর আগে তার মেয়েকে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির গৃহকর্মীর কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে গাইবান্ধা শহরের বাসায় নিয়ে যায়।

ওই কিশোরী অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৮-৯ মাস আগে একদিন দুপুর বেলায় সে তার শয়ন ঘরের বাথরুমের দরজার ছিটকিনি ভুলে না দিয়ে গোসল করতেছিল। এসময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই শিক্ষক বাথরুমে প্রবেশ করে। পরে তাকে বাথরুম থেকে বের করে নিয়ে গৃহকর্মীর বেডরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে বাঁধা দিলে তিনি ভয়ভীতি দেখায়। পরে ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে ধর্মীয় গ্রন্থ স্পর্শ করিয়ে শপথ করান। এরপর থেকে তার উপর চলতে থাকে ওই শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতন।

আরো পড়ুন: গোপালগঞ্জে করোনায় অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

গাইবান্ধা থানা চত্বরে ওই কিশোরীটির দাদি বলেন, ‘ধর্ষণের বিষয়টি শিক্ষকের স্ত্রী জানতে পেরে সম্প্রতি ওই কিশোরীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু হঠাৎ মেয়েকে বাড়িতে পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে কোন উত্তর না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে শিক্ষক ইউনুসের যৌন নির্যাতনের ঘটনা মা-বাবার বাবার কাছে বর্ণনা দেয়। 

তিনি আরো জানান, বিষয়টি ওই শিক্ষকের পরিবারকে জানালে সমাধান না করে উল্টো তারা ওই মেয়ের পরিবারকে বিভিন্নভাবে শাসান। 

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার জানান, ঘটনাটি জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। 

জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক ইউনুস আলীর মুঠোফোনে ফোন করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মাহফুজা খানম মিতা ও সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ কিশোরী গৃহকর্মীর ওপর যৌন নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবি জানান।

ইত্তেফাক/এএএম