চালুর ৫ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ বুড়িমারী স্থলবন্দর 

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ১৮:০৫

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৭৯ দিন বন্ধ থাকার পর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর ও ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর বুধবার (১০ জুন) সচল হওয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যে আবারো বন্ধ হয়ে যায়। পণ্যবাহী যান আসা-যাওয়া করলে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এ আশঙ্কায় ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা গ্রামের বাসিন্দারা চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে বাঁধা প্রদান করে। প্রবেশকৃত ট্রাক ঘিরে ধরে হট্টগোল করায় মূলত অচল হয়ে পড়ে উভয় দেশের স্থলবন্দর। 

অপরদিকে ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিচ্ছেন চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন এ নিয়েও ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। 

স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যবাহী যান প্রবেশের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের বন্দর চালু হয়। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে থেকে ৩৫ টি পণ্যবাহী গাড়ি ভারতে প্রবেশ করে ও ভারত থেকে ৪৫ টি পণ্যবাহী গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর দুপুর প্রায় ২ টার সময় ভারতীয় গ্রামবাসী স্থলবন্দরের কর্মকর্তাদের সামনেই ট্রাক প্রবেশে বাধা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। ফলে ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী ট্রাক ফিরিয়ে দেয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকও বুড়িমারীতে যেতে নিষেধ করে। 

আরো পড়ুন: গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা 

অন্যদিকে ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিলেও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে বাধা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ফেরত পাঠাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বুড়িমারী ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারতে যেতে ইচ্ছুক ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নিচ্ছেনা চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ। তবে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ওই চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন হয়ে আসতে কোনো সমস্যা হচ্ছেনা।’ 

উল্লেখ্য, সোমবার (৮জুন) বুড়িমারী স্থলবন্দর চেকপোস্ট এলাকার শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে সকাল ১১ টা থেকে বেলা প্রায় সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বাংলাদেশি ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে বুধবার (১০ জুন) উভয় দেশের বন্দর ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। তারা ভারতীয় কুচবিহার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, চ্যাংরাবান্ধা বন্দর ও কাস্টমস্ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন।’  

ইত্তেফাক/এএএম