পাবনায় বেড়েছে বিলুপ্তপ্রায় রাসেল ভাইপারের উপদ্রব

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ১৭:৩২

পাবনায় বিলুপ্তপ্রায় বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এই বিষাক্ত সাপের দেখা মিলছে পদ্মার চরের ফসলের মাঠ, ঝোপঝাঁড়, এমনকি বসতবাড়িতেও। প্রতিষেধকের সহজলভ্যতা না থাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চরাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক থাকার তাগিদ স্থানীয় প্রশাসনের।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা জানান, রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে ’চন্দ্রবোড়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত মানুষের উপস্থিতিতে অন্য সাপের সরে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও, রাসেল ভাইপারের আচরণ আক্রমণাত্মক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কদিন আগে ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড় পাড়া গ্রামের সেলিনা খাতুন রাতে নিজ ঘরেই সাপের দংশনের শিকার হন। পরিবারের লোকজন আগ্রাসী প্রকৃতির সাপটিকে মেরে রোগীর সঙ্গেই নিয়ে আসেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসকরা প্রথমে সাপটিকে চিনতে না পারলেও, পরিবেশবিদদের সহায়তায় নিশ্চিত হন সাপটি ‘রাসেল ভাইপার’। তবে দংশনের শিকার হলেও সৌভাগ্যক্রমে সেলিনার শরীরে বিষ প্রয়োগ করতে পারেনি বলে ধারণা চিকিৎসকদের। বর্তমানে সাপটিকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু সালেহ মোহাম্মদ জানান, সেলিনা খাতুনের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গ না দেখা দেওয়ায় তাকে শঙ্কামুক্ত বলেই ধারণা হয়েছে। তবে রাসেল ভাইপারের ক্ষেত্রে দংশনের সপ্তাহখানেক পরেও বিষক্রিয়া শুরু হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। তাকে রিলিজ দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পাবনা নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সহ সভাপতি সুপ্রতাপ চাকী বলেন, পদ্মার চরে কৃষকরা চাষাবাদ করেন, তাই তাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রকৃতির প্রয়োজনে সাপকেও বেঁচে থাকতে দিতে হবে।  অনুকূল পরিবেশ পেয়ে  পদ্মাপারের চরগুলোতে এটির দ্রুত বিস্তার ঘটছে বলে তিনি মনে করেন। 

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, স্থানীয়দের সতর্ক করতে জেলা প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ দল পদ্মার চরগুলোতে কাজ শুরু করেছে।

ইত্তেফাক/এসি