করোনায় উন্নয়নই মূল চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ১৭:২৩

করোনাদুর্যোগে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নই মূল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন মারাত্মক হুমকির মুখে। রাজস্ব আদায় বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন সম্ভব না হওয়ায় জিডিপি লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে না। সরকারি কাজকর্ম সচল রাখার চেষ্টা চালিয়েও সম্পূর্ণভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। 

কর্মকর্তা কমর্চারিদের মনে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো, ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে বলেন, ২৫ শতাংশ জনবল নিয়ে সামগ্রিকভাবে সকল কাজ করা কঠিন। কর্মকর্তাদের মান উন্নয়নে দেশের ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ। তবে ৪ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজার নার্সের পদ সৃজন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারের ১৬৪ কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত। মারা গেছেন ১ ০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮২ জন।

করোনার প্রভাবে প্রকৃতপক্ষে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম চলছে রুটিনমতো। অনেককাজ ফেলে রাখতে হচ্ছে। হয়তো কোন একটি উইংএর সবাই একসাথে আসতে পারছেন না। ফলে সে কাজ করা যাচ্ছে না। জরুরি কিছু কাজ অন্যসব কাজ এখন পড়ে থাকছে।

জাতীয়করণকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ বন্ধ বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত।  

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, করোনার কারনে সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন যথাসময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। দেশের অবকাঠামো রাস্তা, বিভিন্ন ভবন নির্মাণের ৭০ শতাংশ কাজ এ বিভাগের অধীন, বাকি কিছু পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খাদ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে। বাজার দামের তুলনায় সরকারি ক্রয় মূল্য কম নির্ধারণ করায় চাষি বা মিলাররা গুদামে চাল ধান দিচ্ছে না। পক্ষান্তরে ত্রান বিতরণে অনেক চাল বেরিয়ে যাওযায় আপদকালীন মজুদে টান পড়ছে। ১৪ লাখের জায়গায় এখন ১০/১১ লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে সরকারি গুদামে। তবে মানুষের ঘরে পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে। 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টান নির্মান মেরামতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। স্বাস্হ বিধি মেনে প্রয়োজনীয় শ্রমিক একত্রিত করতে না পারার কারনে সব ধরনের অবকাঠামো নির্মানে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে