রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (২৬) খুন ও লাশ তিন টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শাহীনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (১৮) ও তার মা রাশিদা আক্তার (৪৮)। তাদের কাছ থেকে লুটের ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামী মনি সরকারের স্বামী চার্লস রূপম সরকারকে (২৬) খুঁজছে পুলিশ। মনি সরকার ও রাশিদা শুক্রবার নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, গত ১৫ জুন সোমবার দ¶ণিখান থানার মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বটতলা এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত লাশের নাভি থেকে নিচের অংশ এবং একই দিন নাভি থেকে গলা পর্যন্ত অংশ বিমানবন্দর থানা এলাকার হাজী ক্যাম্প সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় হেলাল উদ্দিন বলে সনাক্ত করা হয়। পরদিন ১৬ জুন মধ্যরাতে দক্ষিণ খান থানার গাওয়াইর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার কবরস্থান সংলগ্ন ডোবা থেকে হেলালের খন্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজে থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহ চার্লস রূপম সরকার নামে এক খ্রিষ্টান যুবককে সনাক্ত করে। তাকে লাশের খন্ডিত অংশের বস্তাটি রিকশায় করে নিয়ে ঝোঁপে ফেলে দিতে দেখা যায়। উত্তরার প্রেম বাগান ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে প্রথমে মনি সরকার ও পরে তার মা রাশিদাকে গ্রেপ্তার করে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসার টাকা লুটের জন্য হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পরে গতকাল শুক্রবার আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়।
স্বীকারোক্তিতে আসামীরা জানান, হেলাল উদ্দিন উত্তরা এলাকায় বিকাশ, মোবাইল রিচার্জ এবং ফটোকপির ব্যবসা করতেন। তার ব্যবসা বেশ ভালো চলছিল। তারা তার কাছে অনেক অর্থ আছে বলে আসামিদের সন্দেহ হয়। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে পরস্পরের যোগসাজসে ব্যবসার অর্থ লুটের অংশ হিসেবে হেলালের কাছে একটি ফটোকপি মেশিন বিক্রির প্রস্তাব দেয়। ফটোকপি মেশিনটি বাসায় আছে বলে জানায়। হেলাল ফটোকপি মেশিন কেনার জন্য নগদ কিছু টাকাসহ রূপম সরকারের ভাড়া বাসা দক্ষিণখান থানবার মোল্লারটেক, তেঁতুলতলা বেকারীর মোড়ে একটি বাড়ির দোতলায় যায়। তাকে কথাবার্তার এক পর্যায়ে চা পান করতে দেয়। ঘুমের ওষুধ মেশানো চা পান করার এক পর্যায়ে হেলাল জ্ঞান হারান। হেলাল জ্ঞান হারানোর পর রূপম সরকার ও মনি সরকার ডিশ লাইনের তার গলয় পেঁচিয়ে দু’জনক দুদিক থেকে প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত টনে ধরে হেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হেলালের লাশ গুমের কৌশল হিসেবে রূপম সরকার লাশটি বাসার টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখানে রূপম ও মনি সরকার মাছ কাটার বটি এবং ছুরি দিয়ে কুপিয়ে প্রথমে হেলালের শরীর থেকে মস্তক আলাদা করে। স্বামী-স্ত্রী মিলে চেপে চেপে হেলালের শরীর থেকে সব রক্ত বের করে। এরপর তার লাশের নাভী থেকে নিচের অংশ থেকে আরেকটি টুকরা করে। লাশটি ভালো করে ধুয়ে ফেলে যাতে তার থেকে কোন রক্ত বের না হয়। লাশের টুকরাগুলো পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে নেয়। এরপর পর তারা লাশের নাভি থেকে পা পর্যন্ত একটি সিনথেটিকের সাদা বস্তায় ভরে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় তুলে দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বটতলা এলাকায় একটি বাড়ির সামনের অংশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। নাভি থেকে গলা পর্যন্ত অংশটি আরেকটি বস্তায় ভরে বিমানবন্দর থানার হাজী ক্যাম্প সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে আসে। মাথার অংশটি তারা গাওয়াইর কবরস্থান সংলগ্ন একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়।
ইত্তেফাক/কেকে
