ভারত-চীন সংঘর্ষ: যে পাঁচ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে চীন

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০১:৩১

বিতর্কিত সীমানায় শান্তি বজায় রাখতে নানা চুক্তি করেছে চীন ভারত। এই চুক্তি অনুযায়ী  বিগত কয়েক দশকে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীরা একে অপরের দিকে কোন গুলি ছুঁড়েনি। তবে গত সোমবারে লাদাখে যে সংঘর্ষ তাতে  চুক্তিগুলোকে কতখানি ব্যর্থ করেছে। ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, কৌশলগত লক্ষে দ্বন্দ্ব হলে চীন এসব চুক্তির কোন ধার ধারে না। 

চীন যেসব সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে স্ট্রাট নিউজ গ্লোবালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: 

ভারত চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি বরাবর শান্তি ও স্থিতিবস্থা চুক্তি ( ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩):

এই চুক্তি অনুযায়ী বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কোন সমস্যা বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিলে দেশ দুইটি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিবে।  

সামরিক মাঠে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি (২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬):  

দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের যদি কোন কারণে প্রকৃত নিয়ন্ত্রনরেখা বরাবর মুখোমুখি অবস্থার মত পরিস্থিতি হয়, তাহলে তাদের আত্মসংযমের চর্চা করতে হবে বা  উত্তেজনা কমাতে সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।   

সামরিক ক্ষেত্রের আত্মবিশ্বাস ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ( ১১ এপ্রিল ২০০৫): 

যদি কোন কারণে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা মুখোমুখি অবস্থানে হয় তাহলে কোন পক্ষই কারো বিরুদ্ধে কোন বাহিনী ব্যবহার করবে না বা একে অপরকে হুমকি দিবে না। 

ভারত- চীন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের ওয়ার্কিং মেকানিজম প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চুক্তি (১৭ জানিয়ারি, ২০১২): 

উভয় পক্ষের  যুগ্ম-সচিব  স্তরের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই চুক্তির লক্ষ্য ঠিক করা হয় যে, সীমান্ত পরিস্থিতি যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সীমানন্তের সকল ঘটনার তথ্য সরবরাহ। 

সীমান্ত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি (২৩ অক্টোবর ২০১৩) : 

দুই দেশই একমত হয় যে, উভয় পক্ষের সীমান্তবাহিনী যদি এমন অঞ্চলে সামনের মুখোমুখি অবস্থানে আসে যেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখা সম্পর্কে ধারণা নেই, সেখানে উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আত্ম-সংযমে থাকবে। উস্কানি, শক্তি প্রয়োগ বা  একে অপরকে হুমকি দেয়া থেকে বিরত থাকবে। সেখানে একে অপরের সঙ্গে  সৌজন্যমূলক আচরণ করবে।

গত সোমবারের সংঘর্ষে ভারতীয় বাহিনীর ২০ জন সেনা নিহত হয়। অন্যদিকে চীনের সেনারা হতাহত হলেও ঠিক কতজন আহত বা নিহত হন সে সম্পর্কে দেশটি কিছু জানায় নি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

ইত্তেফাক/এসআর