করোনার প্রাদুর্ভাব ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখার দাবি বেইজিংয়ের

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০৪:৫৭

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে নতুন করে দেখা দেওয়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বেইজিংয়ে আগের তুলনায় ভাইরাস সংক্রমণ কিছুটা কমার পর চীনের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ এর প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ উ সানিউ একথা জানান। এদিকে বেইজিংয়ের পাইকারি খাদ্য বাজারের মাংস ও সামুদ্রিক খাবারে ভয়াবহ মাত্রায় নতুন করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার সানিউ বলেন, ‘বেইজিংয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও যে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়বে না তা নয়। তবে তা হয়তো ভাইরাস পরীক্ষার কারণেই ধরা পড়বে। নতুন করে সংক্রমণ ছড়াবে না। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা মানেই যে কাল-পরশুর মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নেমে আসবে তা নয়। এই ধারা একটি সময় পর্যন্ত চলবে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে। ঠিক যে রকমটি আমরা দেখেছিলাম (বেইজিংয়ে) জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে।’

বেইজিংয়ে করোনা ভাইরাস নতুন করে ছড়িয়ে পড়া শুরু হতেই কর্তৃপক্ষ দ্রুত তা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে, আরোপ করা হয়েছে নানা বিধিনিষেধও। উহানের মতো কঠোর লকডাউন বেইজিংয়ে দেওয়া না হলেও, যুদ্ধকালীন তত্পরতায় ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা চলেছে। রাজধানীর স্কুল বন্ধ করে দিয়ে চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। বেইজিং থেকে কিংবা বেইজিংগামী অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কিছু কিছু এলাকা অবরুদ্ধও করে দিয়েছে। রাজধানীর ২৭টি এলাকাকে ‘মধ্যম-ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। এসব এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার নিবন্ধন ও শরীরের তাপমাত্রা মাপার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাইকারি খাদ্য বাজারের মাংস ও সামুদ্রিক খাবারে ভয়াবহ মাত্রায় নতুন করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এলাকাটিতে কম তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেশি হওয়াই ভাইরাসের মাত্রা বাড়ার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বেইজিংয়ে বৃহত্তম সিনফাদি বাজার থেকে গত সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ সামাল দেওয়ার চেষ্টার মধ্যে খাবারে ভাইরাসের মারাত্মক উপস্থিতি ধরা পড়ার প্রাথমিক এ রিপোর্ট দিলেন কর্মকর্তারা। চীনের পাইকারি খাবারের বাজারগুলোতে নোংরা পরিবেশ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ভালো না হওয়ায় এসব স্থান ভাইরাসের উত্স হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।