কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলের চার কুয়েতি সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন। বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও উপহার নিয়ে তারা কাজী পাপুলকে মানব পাচার ও অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন। গতকাল আরব টাইমসের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৬ জুন মানব পাচার, অর্থ পাচার ও কর্মী শোষণের অভিযোগে কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডির সদস্যরা। আটক করা হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মূর্তজা মামুনকে।
ইতিমধ্যে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। জানা গেছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ, রেসিডেন্সি আইনের লঙ্ঘন ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। দেশটির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি আর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।
আরব টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদকালে কাজী পাপুল বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। যারা কুয়েতে তাকে বিভিন্ন সময়ে অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করেছেন। এমপি কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে নতুন করে চার জনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ নিয়ে মোট ৯ জন তদন্তের অধীনে রয়েছেন।
নতুন চার জনের মধ্যে দুই জন কুয়েতের পাবলিক অথোরিটি ফর ম্যানপাওয়ারের কর্মকর্তা, একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্নেল এবং অন্য জন ব্যবসায়ী নারী। সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতে কাজী পাপুলকে যারা সহায়তা করেছেন তাদের সবাইকে শিগিগরই আটক করা হবে।
এদিকে কাজী পাপুলকে গ্রেফতারের দুই সপ্তাহ পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানায়নি কুয়েত সরকার। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাজী পাপুলের ব্যাপারে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কুয়েতের কাছ থেকে তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
