ভারী বর্ষণ হলে এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অর্ধশতাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশ চ্যানেল অকার্যকর হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতি দেখা দেবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াসাসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হলে বৃহত্ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিকল্পনা দিয়ে জলাবদ্ধতার সাময়িক সমাধান হলেও তা টেকসই হবে না। কোন এলাকার পানি কোন পথ দিয়ে কীভাবে নিষ্কাশন করতে হবে সে বিষয়ে আগে সব সংস্থার যৌথ পরিকল্পনা করতে হবে। এরপর কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে একেক এলাকা নিয়ে একেক বছর সমস্যায় থাকতে হবে।’
জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ৩০টি ও উত্তরে ২৯টি এলাকা রয়েছে। ঢাকা উত্তরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হচ্ছে আশকোনা, বিমানবন্দর সড়কের আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত, মিরপুর সাংবাদিক কলোনি এলাকা, নয়াটোলা শহীদ আবদুল ওয়াহাব রোড, উত্তর বেগুনবাড়ী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পূর্ব মণিপুর, দক্ষিণ মণিপুর, আমতলা, পীরেরবাগ, মিরপুর ১০, মিরপুর ১৩, বাংলামোটর বিয়াম ভবনের গলি, মধুবাগ প্রধান সড়ক, শাহ সাহেববাড়ী রোড, কাওরান বাজার টিসিবি ভবন সংলগ্ন এফডিসি থেকে সার্ক ফোয়ারা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি, নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, পশ্চিম নাখালপাড়া, পাগলারপুল, পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম রাজাবাজার, বসুন্ধরা সিটির পেছনে তেজতুরী বাজারের গার্ডেন রোড, গ্রিন রোড এবং উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড ও পশ্চিম ধানমন্ডি ঈদগাহ রোড; ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ মার্কেট সাইকেল স্ট্যান্ড; ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের ইস্কাটন রোড; ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা; ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিমউদ্দিন রোড ও ঢাকা কারাগার সদর দপ্তরের সামনের অংশ; ২২ নম্বর ওয়ার্ডের গণকটুলী সিটি কলোনির সামনের এলাকা; ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ পার্ক; ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিগাতলা কাঁচাবাজার মসজিদের পাশের এলাকা; ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল ২৮ কে পি ঘোষ স্ট্রিট কসাইটুলী; ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আগা সাদেক রোড, আগামাসি লেন, আব্দুল হাদি লেন, বাংলাদেশ মাঠের সামনের রাস্তা, মাজেদ সরদার রোড ও সিক্কাটুলী; ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিরা বাজার, সিদ্দিকবাজার ও আলুবাজার; ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওলাদ হোসেন লেন ও নবরায় লেন; ৭, ৩৯ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াজান গলি, মাদ্রাসা গলি, ঋষিপাড়া, কে এম দাস লেনসংলগ্ন রাস্তা, আর কে মিশন রোড ও অভয়দাস লেন গোপীবাগ বাজার রোড এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধলপুর স্টাফ কোয়ার্টার ও ১৪ নম্বর আউটফল ধলপুর ওয়াসা রোড।
তবে দুই সিটি করপোরেশন এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে এডি-৮ খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। এটি সিভিল অ্যাভিয়েশনের হলেও উত্তর সিটি নিজ উদ্যোগে এই খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে আশকোনাসহ আশপাশের এলাকায় এবার জলাবদ্ধতা কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া মিরপুর সাংবাদিক কলোনি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছর খালটি পরিষ্কার করে ডিএনসিসি। পাশাপাশি খালটির সঙ্গে বাউনিয়া খালের সংযোগ স্থাপন করে সংস্থাটি। বর্তমানে খালটি আবারও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। ফলে এই বর্ষায়ও আবার পুরোনো চিত্র দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা ওয়াসা। তবে এখনো কাজ শেষ হয়নি। ফলে এই বর্ষায়ও এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘আমরা ছোটো প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যাপ্রবণ কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করেছি। এর মধ্যে শান্তিনগর, নাজিম উদ্দিন রোড, সচিবালয় এলাকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রায় প্রতিটি এলাকার অলিগলিতে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের বড়ো বড়ো ড্রেনের মালিক ঢাকা ওয়াসা। আমাদের ড্রেনের মাধ্যমে ওয়াসার ড্রেনে গিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এখন জলাবদ্ধতা হবে নাকি হবে না, তা নির্ভর করছে ওয়াসার ড্রেন বা বক্স কালভার্টের ওপর। এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের যেসব পথ রয়েছে, সেগুলো একেকটি একেক সংস্থার। এখন অন্য সংস্থাগুলো তাদের মালিকানাধীন খাল বা নালা সচল রাখতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যে কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ’
ইত্তেফাক/এসআই
