উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে প্যানেলে নিয়োগের দাবিতে রাজধানীসহ ৩০ জেলায় মানববন্ধন করেন নিয়োগ বঞ্চিত ছাত্রছাত্রীরা। আজ বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সামনে এক মানববন্ধন করেন জেলা কোটা থেকে বঞ্চিত মেধাবী প্রার্থীরা। এরপর তারা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। এই সময় একযোগে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩০ জেলায় মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় বলে জানা যায়।
জানা যায়, যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে ২০১৮ সালে ১২.০১.০০০০.৩৮.১১.০০৪.২০১৭.৮২৬ নম্বর স্মারকে ১৬৫০ জনের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সকল প্রকার কোটা ও সরকারি সকল বিধি বিধান মানা হবে বলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল। গতবছরের ২ আগস্ট প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৮ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৩৯ প্রার্থী। ওই বছরই ১৩ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে ৫১১৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।
এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর হতে এ বছরের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৮ দিনে ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার বেলা ২ ঘটিকায় সরকারি ছুটির দিন প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৬৫০ টি রোল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে ফল প্রকাশ করে তা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে জানান তারা। এই নিয়োগের কোন অবস্থাতেই জেলা কোটা মানা হয়নি বরং কিছু জেলা থেকে অধিক পরিমাণে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে ৩৩ জন নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নিয়োগ পেয়েছে ৫২ জন, আর রংপুরে জেলা কোটায় ৩৪ জন নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও নিয়োগ পেয়েছে মাত্র ২ জন। বৈষম্য শিকার সে সব জেলা থেকে প্রতিবন্ধী, এতিম, আনসার ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে কিছু নিয়োগ দেয়া হলেও সাধারণ মেধাবীদের কোন নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতে করে মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীরা হতাশাগ্রস্থ হন।
তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ গড়ার সৈনিক রূপে দেশের সরকারের সাথে থেকে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে করোনা পরবর্তী দুর্ভিক্ষ হতে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ ২০১৮ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ভাই বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীকে প্যানেলের নিয়োগ যেন দেওয়া হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা একটি খোলা চিঠিও লিখেন বলে জানা যায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মো আরিফ হোসেন, আনন্দ কুমার চন্দ , বাশারসহ আরো অনেক মেধাবী জেলা কোটা বঞ্চিত প্রার্থীগণ।
ইত্তেফাক/কেকে
