অভিন্ন নদীগুলোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের কাজে পানির ব্যবহার নিয়ে এবার আরো দুই প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ল ভারত।
নেপাল-ভারত সীমান্তে গন্ডক নদীর ওপর যে ব্যারাজ আছে, তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নেপাল বারবার বাধা দেওয়ার পর বিহার সরকার এ ব্যাপারে দিল্লির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
পাশাপাশি, আসামের বাকসা জেলার হাজার হাজার চাষি অভিযোগ করছেন, মিত্র দেশ ভুটান তাদের সেচের পানি আটকে দিয়েছে। খবর বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়া টাইমসের
ভারতের কৃষকদের চাষের পানি গতকাল থেকে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ভুটান। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন আসামের গরিব চাষিরা। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা। ভুটান সরকার অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে।
সেই ১৯৫৩ সাল থেকে আসামের বাকসা জেলায় একটি সেচ চ্যানেল দিয়ে কৃষকদের পানি দিত ভুটান। সেই পানি দিয়ে চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ হয় প্রায় ২৬ গ্রামের চাষিদের। হঠাত্ই সেই পানি দেওয়া বন্ধ করে দেয় ভুটান। মাথায় হাত চাষিদের। কীভাবে মিটবে এই সমস্যা, তা নিয়ে কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না তারা। বাকসার জেলা প্রশাসনও বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা বিষয়টি নিয়ে ভুটানের কাছে প্রতিকার চেয়েছে।
লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পুয়াধারার মতো সীমান্তের বিতর্কিত এলাকাগুলোকে নেপাল নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জেরে দিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এখন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গন্ডক ব্যারাজ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ।
বহু বছরের সমঝোতা অনুসারে সীমান্তবর্তী এই ব্যারাজটি ভারতই বরাবর রক্ষণাবেক্ষণ করে এসেছে। কিন্তু এই মওসুমে টানা ১০ দিন চেষ্টা চালানোর পরও ভারতীয় প্রকৌশলীরা সে কাজে সফল হননি, বুধবারও তাদের ব্যারাজ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে।
বিহারের পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা বলছেন, বাল্মীকিনগর জেলায় গন্ডকের ওপর যে ব্যারাজ আছে তাতে মোট ৩৬টি গেট আছে। ১৮টি ভারতের দিকে, ১৮টি নেপালের দিকে। নেপালের দিকে যে ১৮ নম্বর বা শেষ গেট, সেখানে তারা হঠাত্ প্রাচীর তুলে দিয়েছে। ফলে বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম নিয়ে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকরা ওদিকে যেতেই পারছেন না, বাঁধের ডানদিকের অংশ বা অ্যাফ্লাক্সটা বিরাট ঝুঁকিতে পড়েছে।
গন্ডক দিয়ে রোজ রাতে এখন দেড় লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি মেরামত আর মনিটরিংয়ের কাজই না করতে পারি তাহলে পুরো উত্তর বিহারই ভীষণ বন্যার বিপদে পড়বে। উদ্বিগ্ন বিহার সরকার এরপরই এই সংকটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে বুধবার দিল্লিতে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
