আফগানিস্তানেও জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে পাকিস্তান

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ১৬:১১

আফগানিস্তানের মাটি জঙ্গিদের জন্য একরকম অভয়ারণ্য বলা চলে। দেশটিতে যেমন রয়েছে আল কায়েদার তৎপরতা। ঠিক তেমনি রয়েছে আইএস জঙ্গিদের উপদ্রব। সেই সাথে রয়েছে তালেবানদের কার্যক্রম।   এছাড়া তালেবানদের মতাদর্শ অনুসরণ করা হাক্কানি নেটওয়ার্কও পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে  ।   এ সব জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায়  প্রতিবছরই জঙ্গিদের হামলায় দেশটিতে বহু মানুষ আহত এবং নিহত হন। আর এ সব জঙ্গিদের দমনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আফগান সরকার, ন্যাটো এবং মার্কিন বাহিনী।  

সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, পাকিস্তানের জঙ্গিদের মুক্তভূমি হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান।  প্রতিবেদনে বলা হয়,  পাকিস্তানের প্রায় ৬৫০০ সন্ত্রাসবাদী রয়েছে আফগানিস্তানে। যাদের মধ্যে প্রায় একহাজার জঙ্গি লস্কর- ই- তৈয়বা ও জইশই মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত। এই দুটি সংগঠনই  পাকিস্তানকে কেন্দ্র করেই নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়।  

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে , পাকিস্তানিরা তালেবানদের সঙ্গে একসঙ্গ কাজকর্ম করছে। তারা একে অপরের সঙ্গে প্রবলভাবে যোগাযোগ রাখছে বলেও অভিযোগ করা  হয়।     জাতিসংঘের তরফ থেকে আফগান সরকারকে জানান হয়েছে যে, যেসব এলাকা এখনও আফগানিস্তান সরকার দখল করতে পারেনি সেই সব এলাকা রীতিমত প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে হাত বাড়িয়েছে জঙ্গিরা। নিয়মবিধি না মেনেই সোনা তামা টিন উত্তোলন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তালেবান ও আল কায়েদার মধ্যে সংযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে তালেবানরা মূলত পাকিস্তানি হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আল কায়েদার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করছে। 

  মার্কিন  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে আফগানিস্তানে তালেবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়। তারা আফগানিস্তানের বহু সরকারি কর্মী, কর্মকর্তাকে হত্যা করে। পাশপাশি আইএস জঙ্গিরাও বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে গেছে। আইএস জঙ্গিদের খোরাসান বিভাগ আকিস জঙ্গি গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে তেহরিক-ই- তালেবানদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের সীমান্তে জঙ্গিদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান বানাতে কাজ করছে। 

ইরান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে আফগানিস্তান সরকার। কারণ ওই সব সীমান্ত অঞ্চলেই জঙ্গিরা নিরাপদে আশ্রয় নিচ্ছে। এতে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে সীমান্তে শান্তি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০১৮ সালে সীমান্তে শান্তি এবং নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে আফগানিস্তান। যেখানে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য উভয় দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। পাশপাশি শরণার্থী, ব্যবসা, শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তান প্ল্যান ফর পিস এন্ড সলিডিরাটি নামের চুক্তিটি করে।

আফগানিস্তান এখন মার্কিন  সরকারের সহায়তা নিয়ে এখন দেশের সীমান্ত  শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।   দেশটির বেশ কিছু সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়ের জন্য ইতোমধ্যে মার্কিন নীতি অনুসরণ করছে আফগান সরকার।

   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আফগানিস্তানে উল্লেখযোগ্যহারে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যায়। এই হামলার বেশিরভাগই ঘটেছে কাবুল, জালালাবাদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে। জঙ্গিরা এসব হামলায় সরকারের বিভিন্ন স্থাপনা, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তা, সাধারণ নাগরিক ও আফগান বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। আফগান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিসলিউট সাপোর্ট মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জঙ্গিদের হামলায় আফগানিস্তানের মারা গেছেন ১ হাজার ৬১৮ জন, আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৫৮ জন।   

ইত্তেফাক/এআর