চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় দুই কন্যা সন্তানকে গলাটিপে হত্যার পর পিতা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বুধবার (১ জুলাই) ভোরে উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ভান্ডারগাঁও এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ দুই মেয়ে টুকু বড়ুয়া (১৫) ও নিশি বড়ুয়ার (১০) লাশ উদ্ধার করেছে। টুকু বড়ুয়া ৮ম শ্রেণির এবং নিশি বড়ুয়া ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যার পর পিতা মুকুন্দ বড়ুয়া বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিতা মুকুন্দ বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। এরপর তাকে পটিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফজারুল হক টুটুল, সহকারী পুলিশ সুপার (পটিয়া) তারেক হোসেন ও পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আরো পড়ুন: শেরপুরে সিএনজি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
জানা গেছে, মুকুন্দ বড়ুয়ার স্ত্রী ৩ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।পিতা মুকুন্দ বড়ুয়া দুই কন্যা সন্তান নিয়ে এতদিন বসবাস করে আসছিলেন। অভাবের সংসারে বিভিন্ন বিষয়ে অশান্তি দেখা দেয়। বুধবার ভোরে দুই কন্যা সন্তানকে ঘরের ভেতর গলাটিপে হত্যা করে মুকুন্দ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ জানান, মুকুন্দ বড়ুয়ার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অভাবের সংসারে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে কষ্টে পড়েন। তবে কি কারণে দুই কন্যা সন্তানকে হত্যা করেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।
পটিয়া থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দীন জানান, দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে পিতা মুকুন্দ বড়ুয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পিতাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/এএএম
