জামালপুরের মেলান্দহে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, তিনদিন আগে আমডাঙ্গা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জাহিদুল ইসলামের (১৮) সঙ্গে জমির উপর দিয়ে ইটের গাড়ি নেয়াকে কেন্দ্র করে হাজী রমজান আলীর ছেলে এনামুল হকের (২৫) কথা কাটাকাটি হয়। পরে এনামুল হক আমডাঙ্গা বাজারে আসলে জাহিদুলের লোকজন এনামুলকে মারপিট করে। এ নিয়ে প্রতিবেশী ডা. আলহাজ রমিজ উদ্দিনের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন (৬৫) ও কেয়ামত আলীর ছেলে দুলাল উদ্দিন (৫৫) বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন।
এরপরও জাহিদুলের লোকজন এনামুল হককে মারধর করলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য ২৯ জুন সন্ধ্যায় আমডাঙ্গা বাজারে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেন। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আবারো উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনকে পিটিয়ে আহত করলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নজরুল ইসলাম (৪৮), আশরাফুল ইসলাম মন্টু (৫০), রনজু মিয়া (৩০), শাহীনুর ইসলাম (৩৫), রুকন উদ্দিন (২২), দেলোয়ার হোসেন (৪৮), এনামুল হক (২৮), আ: মান্নান (৫০), আনোয়ার হোসেন (২৫), রানী বেগম (৪৫), গুরুতর আহত হন।
৩০ জুন বিকেল ৫টার দিকে জয়নাল আবেদীনের পক্ষের আসাদুজ্জামান সরকারকে আমডাঙ্গা বাজারে পেলে দুলাল পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে মুকুল মাস্টার (৪৮), আসাদুজ্জামান সরকারসহ (৫০) উভয় পক্ষের আরো ৮/১০ জন আহত হয়। আহত অবস্থায় তারা জামালপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম খানু জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
