ইন্দুরকানীতে ভাঙা বেড়ি বাঁধে দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৪:৪২

পিরোজপুরের ইন্দুকানীতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দার। বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এছাড়া কৃষি জমি প্লাবিত হওয়ায় খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও। 

দুটি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্ফানের আঘাতে বেড়ি বাঁধটির অধিকাংশ স্থান বিলীন হয়ে গিছে। বিশেষ করে উপজেলার উমেদপুর, টগড়া, ইন্দুরকানী, চাড়াখালী, কালাইয়া, সাঈদখালী, ঢেপসাবুনিয়া, চরবলেশ্বর, চন্ডিপুর, কলারন, খোলপটুয়া গ্রামের নদী তীরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধের জন্য বেকায়দার রয়েছেন। 
উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল বলেন, জোয়ারের পানিতে নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়। কৃষি ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধে জনসাধারণের যাতায়াতে দূর্ভোগের শেষ নেই। এমনকি জোয়ারের সময় গৃহস্থের রান্না করার চুলায় পর্যন্ত পানি উঠে যায়। আবার বসত ঘরের চারপাশ ডুবে যাওয়ায় শিশু সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। লোকালয় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।  

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইন্দুরকানী উপজেলার বেড়ি বাঁধের সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে। এরপরে দীর্ঘ সময় কেটে যায় এই বাঁধ মেরামতে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তৎকালীন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর প্রচেষ্টায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে বাঁধের ১৬টি স্থান মেরামত করা হয়। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে ভাঙা বেড়ি বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রামীণ অবকাঠামোর অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন, বেড়ি বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তীদের চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে বাড়ি ঘর তলিয়ে যাচ্ছে। যাতায়াতের জন্য অনেক স্থানে মানুষ নিজেরাই বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন। 

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, ইন্দুরকানীর নদী তীরবর্তী মানুষেরা টেকসই বেড়ি বাঁধের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধ পরিদর্শণ করেছি। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও পুণনির্মানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। বরাদ্দ সাপেক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি