গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গত ২ দিন থেকে তিস্তার পানি বেড়েই চলেছে। কিন্তু তারপরও শনিবার (৪ জুলাই) ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বিপদসীমার ওপরে থাকায় বানভাসী মানুষের বাড়ি ঘর থেকে পানি এখনও নামতে শুরু করেনি। তাই লোকজন এখনও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ ও সড়ক থেকে বাড়ী ফিরতে পারেনি। এইসব বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নেয়া মানুষেরা বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার সংকটসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে যমুনা নদীর পানির বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সাঘাটার জুমারবাড়ি-হলদিয়া সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় পাকা সড়ক ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দপুর গ্রাম। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের ও যমুনা পানি কমতে শুরু করায় নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুইদিনে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার ৭টি পয়েন্টে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ অক্সফোর্ডের করোনা টিকা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম, দাবি বিজ্ঞানীদের
সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল জানান, গত শুক্রবার রাতে সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি-হলদিয়া সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর পানি বাড়ায় একটি পাকা সড়কের ২০০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দপুর গ্রাম। এতে যানবাহন চালক ও পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান জানান, শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে সাধ্যমত দ্রুত কাজ শুরু করা হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী বলেন, আমাদের হাতে আপাতত কোন ত্রাণ নেই। তবে শনিবার রাতেই বরাদ্দ পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/এমএএম
