সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় বিজিবির প্রতিবাদ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২৩:৫৫

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে  অর্থনৈতিক  কর্মকাণ্ড  হ্রাসের ফলে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার জনসাধারণ কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়েছেন। একদিকে বন্যা। অপরদিকে করোনা পরিস্থিতি। এই অবস্থায় দিনে দিনে ঐসব এলাকার জীবন জীবিকা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। সূত্র মতে গত তিন মাসে সিলেট সীমান্তে সীমান্ত অপরাধের দরুন ভারতীয় খাসিয়া নাগরিক ও বিএসএফ‘র গুলিতে ৮ জন আহত  এবং এরই মধ্যে চারজন বাংলাদেশী ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় সর্বত্র উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ভারতীয় খাসিয়ারা বলছে তাদের সুপারিবাগান,ফল বাগান ও ফসলাদির বাগানে ঢুকে পড়ায় তারা গুলি ছুড়ে। আর বাংলাদেশীরা বলেন অনেক সময় তারা লাকড়ি কুড়াতে সীমান্তের কাছে গেলেই অকারণে তারা গুলি চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কাজ নেই, বেকার। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেকেই দিশেহারা। 
এদিকে ৪৮ বিজিবি‘র সিলেট ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লে. কর্নেল আহমেদ ইউসুফ জামিল  পিএসসি, সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি‘র পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে  বিএসএফকে নিন্দামূলক প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ ও  হত্যাকারী খাসিয়া নাগরিকদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে তাগাদা দেয়া হয়েছে।  

অন্যদিকে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন সীমান্তে চোরাচালান চক্র সক্রিয়। সূত্র জানায় সুনামগঞ্জ সীমান্তে গরু প্রতি ৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। জীবিকার জন্য রাতের আধারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফ‘র গুলিতে আহতও হওয়ার  ঘটনাও ঘটে। কিন্তু  এসব চাপা থাকে। আইনি ঝামেলা এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নেয় আহতরা। 

চোরাচালান, মাদক, গরু চড়ানো, ফলমূলের বাগানে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত অপরাধ জনিত মৃত্যু হ্রাস কল্পে  গত শনিবার সিলেটের গোয়াইনঘাট সহ কয়েকটি স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব পৃথক সচেতনতামূলক সমাবেশের আয়োজন করে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি। সমাবেশে বক্তারা বলেন, তামাবিল, বিছানাকান্দি সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত অপরাধ সংগঠিত ও বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা ঘটছে। তারা বলেন, সীমান্তে ভারতীয়দের দ্বারা বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা সহ সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন যেকোনো মূল্যে অপরাধমূলক তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে হবে । 

এসব সমাবেশে  উপস্থিত ছিলেন সিলেটের গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম নুর হোসেন নির্জর, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নজরুল ইসলাম পিপিএম, গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিল্লোল রায়, ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন শিহাব, বিছনাকান্দি বিওপির কমান্ডার দাউদ হোসেন, ইউপি সদস্য পাপলু মিয়া প্রমুখ।  

বিজিবির  ‘আলোকিত সীমান্ত’ প্রকল্প:  

সিলেট সীমান্তে  অবৈধ অনুপ্রবেশ জনিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে সমন্বিত ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিজিবি।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সীমান্তবর্তী হত দরিদ্র লোকজনকে স্বাবলম্বী করতে ‘আলোকিত সীমান্ত’নামে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। 

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আহমেদ ইউসুফ জামিল, সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। হতদরিদ্র লোকজন স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এ জন্য উদ্যোক্তাও খোঁজা হচ্ছে। বিজিবি অধিনায়ক জানান, সীমান্তে নানা অপরাধ সহ ভারতের অভ্যন্তরে গমনাগমনের মাত্রা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে অনেকে হতাহত হচ্ছেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি‘র পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে এটি একটি।  বিজিবি অধিনায়ক মনে করেন বর্তমান অবস্থায় সীমান্তবর্তী জনগণকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রাখা খুবই জরুরী। 

ইত্তেফাক/এসআই