অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির প্রবল চাপে রাস্তা ভেঙ্গে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এবং বাসাইল উপজেলার সঙ্গে গত ৫ দিন ধরে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই উপজেলাবাসিকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় চলচলের জন্য বিকল্প কোন বেইলী ব্রিজ নির্মাণ এবং রাস্তা তৈরি না করায় এলাকাবাসীকে ২৫-৩০ মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: বাদশা মিয়া জানান, মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কদিমধল্যা-ছাওয়ালী-বাসাইল রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে কদিমধল্যা, বানিয়ারা, ডোকলাহাটি, মহেড়া, ছাওয়ালী, বলটিয়া, দেওভোগ, ভাতকুড়া, হাবলা, হিলড়া, নাটিয়াপাড়াসহ ৬০-৭০ গ্রামের লোকজন মির্জাপুর এবং বাসাইল উপজেলায় যাতায়াত করে আসছে। অতি বৃষ্টিতে বংশাই নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি ও পানির প্রবল চাপে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার আদাবাড়ি নজরুল প্রফেসরের বাড়ির পাশে রাস্তাটি ৭০-৮০ ফুট রাস্তা ভেঙ্গে পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় নাটিয়াপাড়া ও করটিয়া দিয়ে ২৫-৩০ মাইল ঘুরে দুই উপজেলাবাসিকে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। গত ৫ দিনেও ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা মেরামত বা বিকল্প সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাটির উপর একটি বেইলী ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় এমপি মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান মো: বাদশা মিয়া জানিয়েছেন। কিন্ত ঘটনার ৫ দিন পার হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে একজন সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটির উপর একটি বেইলী সেতুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম
