নাছরিন ট্রাজিডি: ক্ষতিপূরণ রিটের তদন্ত এখনও হীমাগারে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২১:৫৫

৮ জুলাই। ভোলার লালমোহন উপজেলার মানুষের কাছে এক শোকাবহ দিন। ২০০৩ সালের এই দিনে চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ত্রি-মোহনায় এক মর্মান্তিক লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। এম,ভি নাছরিন-১ নামের ওই লঞ্চ ডুবিতে সেদিন প্রাণ হারায় লালমোহন উপজেলার পাঁচ শতাধিক মানুষ । দিনটির স্মরণে লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আয়োজন করা হয় মিলাদ, দোয়া ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের। আবার অনেকে দিনটিকে‘নাছরিন ট্রাজেডি’ দিবস হিসেবেও পালন করে থাকেন অনেকে। 

এদিকে নাছরিন লঞ্চ ডুবির ১৭ বছর পেড়িয়ে গেলেও মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সাহায্য পায়নি। ২০০৩ সালের ওই লঞ্চ ডুবির পর পরই ক্ষতিপূরণ চেয়ে  উচ্চ আদালতে রিট করেন ‘নিরাপদ নৌ-পথ বাস্তবায়ন জোট’ নামের তৎকালীন একটি সংগঠন। কিন্তু আজও সেই রিট আলোর মুখ দেখেনি। 
এ ব্যপারে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ‘নিরাপদ নৌ-পথ বাস্তবায়ন জোট’ নেতা লালমোহনের বাসিন্দা আ,ন,ম শাহাজামাল দুলাল বলেন, সে সময় আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ স্বজনহারা পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে সে সময় আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছি। কয়েকবার তদন্তও হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছর ধরে সেই রিট হীমাগারেই পরে আছে। ওই লঞ্চে আমার আপন বড় ভাই শাজাহান কুদ্দুস ও ভাতিজিসহ বহু আত্মীয়-স্বজনের সলীল সমাধি হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় প্রায় ৮ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার সদরঘাট হতে লালমোহনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এম,ভি নাছরিন-১ লঞ্চ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুরের পদ্মাা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ত্রি- মোহনায় পৌঁছলে অথৈ জলরাশির ঘুর্ণীপাকে লঞ্চটি ডুবে যায় । সে সময় কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠলেও মারা যায় পাঁচ শতাধিক লঞ্চের যাত্রী । ঘটনার পরদিন থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা-রুস্তুম সপ্তাহব্যাপী চেষ্টা করেও লঞ্চটির হদিস না পেয়ে উদ্ধার কাজ সমাপ্তি ঘোষনা করে। অপরদিকে জলে ভাসা শখানেক ব্যক্তির অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার হলেও পাঁচ শতাধিক  ব্যক্তির সন্ধান পায়নি স্বজনরা।  এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সাহায্য দেওয়ার দাবি ওঠে।

ইত্তেফাক/এসি